বিশ্ব বাবা দিবসে নিজের প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। তিনি জানিয়েছেন, তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে বাবার প্রভাব রয়েছে এবং আজও বাবাকেই নিজের সবচেয়ে বড় আদর্শ মনে করেন।
Advertisement
ববিতা বলেন, ছোটবেলা থেকে বাবা এ এস এম নিজামউদ্দিনের আদর্শ ও শিক্ষায় বেড়ে উঠেছেন তিনি। পরিবারের ছয় ভাইবোনকে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে বড় করে তুলেছিলেন তাদের বাবা। সন্ধ্যার আগেই সবাইকে ঘরে ফিরতে হতো, আর সেই শিক্ষাই পরবর্তী জীবনে তাকে গুছিয়ে ও পরিপাটি থাকতে সাহায্য করেছে।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, তার জীবনের সাফল্যের মূলমন্ত্রও বাবার কাছ থেকেই পাওয়া। অফিস থেকে ফিরে বাবা পরিবারের সবার সঙ্গে সময় কাটাতেন। তাকে পান বানিয়ে খাওয়ানো, পা টিপে দেওয়া কিংবা নানা আবদার করার স্মৃতি আজও মনে গেঁথে আছে।
অভিনয়ে আসার পেছনেও বাবার বড় ভূমিকা ছিল বলে জানান ববিতা। তিনি বলেন, তার বাবা সিনেমাপ্রেমী ছিলেন এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র দেখে পরিবারের সদস্যদের গল্প শোনাতেন। এমনকি সেই গল্পের চরিত্রে অভিনয় করতেও উৎসাহ দিতেন সন্তানদের। সেখান থেকেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।
Advertisement
পরে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করার পরও বাবার উৎসাহ পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায় পরিচালিত অশনিসংকেত সিনেমায় অভিনয়ের আগে বাবার সঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের চিঠিপত্র আদান-প্রদানের কথাও স্মরণ করেন অভিনেত্রী।
ব্যক্তিগত জীবনের একটি স্মৃতিচারণ করে ববিতা বলেন, ছোটবেলায় বাগেরহাটে থাকার সময় একদিন হারিকেন হাতে অন্ধকারে বাবাকে এগিয়ে আনতে গিয়েছিলেন। মেয়ের এই ভালোবাসায় খুশি হয়ে বাবা জানতে চেয়েছিলেন তার কী চাই। তখন সুযোগ বুঝে মামার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার আবদার করেন তিনি, আর বাবা সেই আবদারও মেনে নিয়েছিলেন।
বিয়ের মাত্র চার মাস পর বাবাকে হারান ববিতা। সেই শোক আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। আবেগঘন কণ্ঠে অভিনেত্রী বলেন, ‘আব্বা আমার জীবনের আদর্শ। আমার ইচ্ছা, মৃত্যুর পর বনানী কবরস্থানে আব্বার কবরের পাশেই যেন আমাকে দাফন করা হয়।’
এলআইএ
Advertisement