লাইফস্টাইল

দুপুরে ভাত খাওয়ার পর যেসব কারণে ঘুম আসে

দুপুরবেলা ভাত খাওয়ার পরই অনেকের চোখ জুড়িয়ে আসে। কয়েক মিনিটও চোখ খুলে রাখা কঠিন মনে হয়। এই অভিজ্ঞতা প্রায় সবারই কমবেশি সবারই হয়, বিশেষ করে অফিসে কাজ করার সময় এটি আরও বেশি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ভাত খাওয়ার পরই ঘুম পায় কেন?

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে আমাদের শরীরের হজম প্রক্রিয়া, খাদ্যের ধরন এবং রক্তে শর্করার পরিবর্তনের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কার্বোহাইড্রেটের প্রভাব

ভাতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে। আমরা যখন ভাত খাই, তখন এটি শরীরে গিয়ে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় এবং সাময়িকভাবে শরীরে শক্তি অনুভূত হয়। কিন্তু কিছু সময় পরই এই শর্করার মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। তখনই শরীরে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং ঘুম ঘুম ভাব দেখা দেয়। এই কারণেই ভাত খাওয়ার পর অনেকেই অলসতা অনুভব করেন।

গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের ভূমিকা

সাদা ভাতে সাধারণত হাই গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকে। এর মানে হলো এটি দ্রুত হজম হয়ে শরীরে দ্রুত গ্লুকোজ তৈরি করে। দ্রুত হজমের কারণে রক্তে শর্করা দ্রুত ওঠানামা করে, যা শরীরকে ক্লান্ত করে ফেলে। এই ওঠানামাই অনেক সময় খাবারের পর তন্দ্রাভাব বা ঘুম ঘুম অনুভূতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Advertisement

আরও পড়ুন ৪০ পেরোনো বাবাদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা অতিরিক্ত খাবারের প্রভাব

শুধু ভাত নয়, কতটা ভাত খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ভাত খেলে এবং সঙ্গে ভাজা বা ভারী তরকারি থাকলে হজম প্রক্রিয়ায় চাপ পড়ে।

এই অবস্থায় শরীর হজমে বেশি শক্তি ব্যয় করে, ফলে অন্য কাজে মনোযোগ কমে যায় এবং ক্লান্তি বেড়ে যায়। অনেক সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই বিশ্রাম চায়, যা ঘুম ঘুম অনুভূতির জন্ম দেয়।

কাজের ওপর প্রভাব

ভাত খাওয়ার পর ঘুম পাওয়া কোনো রোগ নয়, তবে এটি দৈনন্দিন কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় কাজের গতি কমে যায়, মনোযোগ নষ্ট হয় এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ডেস্কে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি একটি সাধারণ সমস্যা।

এই সমস্যা যেভাবে কমানো যায়

ভাত খাওয়ার পর ঘুমভাব কমানোর কিছু সহজ উপায় আছে। প্রথমত, ভাতের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। পাশাপাশি ডাল, ডিম, মাছ বা অন্যান্য প্রোটিনযুক্ত খাবার যোগ করলে রক্তে শর্করার ওঠানামা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। ফাইবারসমৃদ্ধ সবজি খেলে হজম ধীর হয়, ফলে হঠাৎ করে ক্লান্তি আসে না।

Advertisement

আরও পড়ুন অতিরিক্ত করলা খেলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে

আর সবচেয়ে কার্যকর একটি অভ্যাস হলো, দুপুরের খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং শরীরকে সতেজ রাখে।

ভাত খাওয়ার পর ঘুম আসা স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া, তবে খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলে এটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সঠিক পরিমাণে খাবার, ব্যালান্সড ডায়েট এবং হালকা হাঁটার অভ্যাস আপনাকে সারাদিন সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, ইন্ডিয়া টুডে ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই