খেলাধুলা

হৃদয়ের ৬১, বাংলাদেশের ১০৯!

দ্বিতীয় ওভারে শুরু, এরপর ইনিংস জুড়ে চলেছে ব্যাটারদের যাওয়া-আসার মিছিল। ১১ ব্যাটারের মধ্যে ৯জনই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। এক পর্যায়ে তো মনে হচ্ছিল নিজেদের টি-টিয়েন্টি ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানের লজ্জায় পড়তে হবে বাংলাদেশকে। তবে একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সেটা হতে দেননি ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তার ব্যাটেই বাংলাদেশের রান ১০০ পার হলো।

Advertisement

রোববার চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ১০৯ রান করে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ সমান ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৫১ বলে ৬১ রান করেন হৃদয়। অর্থাৎ দলের মোট রানের প্রায় ৫৬ শতাংশই এসেছে তার ব্যাট থেকে।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ পাওয়ার প্লের মধ্যেই হারায় ৩ উইকেট, স্কোরবোর্ডে জমা হয় মাত্র ২২ রান।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জনসনের করা তৃতীয় বলটা সোজা খেলেছিলেন সাইফ। বলটা বোলারের হাতে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। তানজিদ হাসান তামিম উল্টো দিকে তখন ক্রিজ থেকে সামান্য বেরিয়ে এসেছেন। এতে রান আউট হয়ে যান তিনি। ওই ওভারের পঞ্চম বলে মিড অফের উপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়েছিলেন সাইফ। কিন্তু দুর্বল শটটা ক্যাচ হিসেবে যায় মিচেল মার্শের হাতে।

Advertisement

এরপর ইমন আর হৃদয় তো সিঙ্গেলই নিতে পারছিলেন না। শুরু থেকেই ভুগতে থাকা ইমন শেষ পর্যন্ত আউট হন পঞ্চম ওভারের শেষ বলে। এর আগে ১ রান করতে তিনি খেলেছেন ১৩ বল। এরপর ৬ষ্ঠ ওভারে নুরুল হাসান সোহান ও হৃদয় একটি করে বাউন্ডারি মারেন। এতে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানের পাওয়ার প্লেতে নিজেদের রেকর্ড ভাঙা থেকে রক্ষায় পায় বাংলাদেশ।

অষ্টম ওভারে ৩৪ রানে বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট। অ্যাডাম জাম্পার নিচু হওয়া বলে বোল্ড হয়েছেন ৮ বলে ৬ রান করা সোহান। শামীম হোসেন পাটোয়ারী আরও একবার ব্যর্থ হয়েছেন। স্লোয়ার ডেলিভারিতে ক্যাচ দিয়েছনে উইকেটের পিছনে। এরপর রিশাদ হোসেন ও হৃদয় প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও স্থায়ী হয়নি। নিখিল চৌধুরীর বলে তার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রিশাদ। এর আগে করেন ২০ বলে ২৬ রান। ৬২ রানে ৬ষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ, তখনো বাকি ৮ ওভার। এক ওভার পর উইকেট ছুড়ে দেন নাসুম আহমেদও!

তবে একপ্রান্তে ব্যাটারদের যাওয়া আসার মিছিল চললেও অন্যপ্রান্ত আগলে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হৃদয়। ৪ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিল দেখেছেন তিনি। এর মধ্যে তার ব্যাটেই দলের আন ১০০ পূর্ণ হয়।

৪১তম বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন হৃদয়। ৬১ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটা হৃদয়ের ৭ম ফিফটি, আর চট্টগ্রামে চতুর্থ। ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে রান ছিল ৭৩। শেষ ৫ ওভারে যোগ হয় আরও ৩২ রান। শেষ ওভারে আসে মাত্র ২ রান।

Advertisement

এসকেডি/আইএইচএস/