জাপানিজরা তাদের উজ্জ্বল ত্বক, টানটান স্কিন এবং স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। এমন অনেক নারী আছেন যাদের বয়স ৬০ হলেও দেখে মনে হয় তারা ৩০-এর কোঠায়। জে-ড্রামার কারণে জাপানের পোশাক, খাবার, নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র থেকে শুরু করে রূপচর্চা সবকিছুতেই এক ধরনের আলাদা ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। তরুণ প্রজন্মও এখন জাপানিজ লাইফস্টাইল ও বিউটি রুটিনে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত হচ্ছে।
Advertisement
আমরা প্রায়ই সিনেমা, টিভি সিরিজ বা বাস্তব জীবনে তাদের দেখে অবাক হয়ে ভাবি, জাপানিরা কী মাখেন? কী এমন অভ্যাস অনুসরণ করেন, যার কারণে তাদের ত্বক এতটা উজ্জ্বল, টানটান ও স্বাস্থ্যকর থাকে? আসলে এর পেছনে কোনো ম্যাজিক নয়, বরং আছে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন, প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার এবং নিয়মিত যত্নের কারণে।
বারবার ত্বক পরিষ্কার করাজাপানিজদের স্কিন কেয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ডাবল বা ট্রিপল ক্লিনজিং। তারা প্রতিদিন নির্দিষ্ট রুটিনে ত্বক পরিষ্কার করেন। প্রথমে ফোম ক্লিনজার ব্যবহার করে ত্বক থেকে ধুলো, ঘাম ও ময়লা গভীরভাবে পরিষ্কার করা হয়। এরপর হালকা লিকুইড লোশন দিয়ে ত্বককে আবার হাইড্রেট করা হয়, যাতে স্কিন নরম ও সতেজ থাকে। শেষে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে ত্বকে আর্দ্রতা লক করা হয়, যা স্কিনকে কোমল ও উজ্জ্বল রাখে।
অনেক জাপানিজ প্রাকৃতিক উপাদান যেমন চালের গুঁড়া ও শৈবাল মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে ত্বক পরিষ্কার করেন। তারা কখনোই সানস্ক্রিন ছাড়া বাইরে যান না, কারণ সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের বয়স বাড়িয়ে দেয়।
Advertisement
ক্লিনজিংয়ের পর টোনার ব্যবহার করা হয়, যা ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক রাখে এবং স্কিনকে সতেজ করে। এরপর সিরাম ব্যবহার করা হয়, যা ত্বকের দাগ, বলিরেখা ও ডালনেস কমাতে সাহায্য করে। সিরাম ত্বকে গভীরভাবে কাজ করে এবং স্কিনকে টানটান ও উজ্জ্বল করে তোলে।
গরম পানিতে গোসল করাজাপানিজদের একটি জনপ্রিয় অভ্যাস হলো দীর্ঘ সময় ধরে গরম পানিতে গোসল করা। তারা গোসলের সময়ই স্কিন ক্লিনজিং এবং তেল ব্যবহার করে থাকেন। এটি শরীরকে রিল্যাক্স করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
শিট মাস্কের ব্যবহারশিট মাস্ক জাপানিজ বিউটি রুটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি একটি জেলভেজা কাগজের মাস্ক যা মুখে লাগিয়ে কিছু সময় রাখা হয়। এতে ত্বক প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করে নেয়। তবে অতিরিক্ত সময় মাস্ক ব্যবহার করা ঠিক নয়, কারণ এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। মাস্ক খুলে নেওয়ার পর বাকি জেল মুখে ম্যাসাজ করলে ত্বক আরও মসৃণ হয়।
ম্যাসাজের গুরুত্বনিয়মিত ফেস ম্যাসাজ ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। কোলাজেন ত্বককে টানটান রাখে এবং বলিরেখা কমায়। তাই জাপানিজরা নিয়মিত ফেস ম্যাসাজ করেন, যা তাদের বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে।
Advertisement
জাপানিজ নারীরা চুলের যত্নে কাঠের চিরুনি ব্যবহার করেন। এই চিরুনি স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল সমানভাবে ছড়িয়ে দেয়, ফলে চুল থাকে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান। তারা কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পুর পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন।
চুলের সৌন্দর্যে তারা ক্যামেলিয়া অয়েল ব্যবহার করেন, যা চুলকে মজবুত ও ময়েশ্চারাইজড রাখে। পাশাপাশি সামুদ্রিক শৈবালও চুলের পুষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন যেসব কারণে লাল লিপস্টিক পরলে নারীকে আত্মবিশ্বাসী লাগে সঠিক খাদ্যাভ্যাসজাপানিজদের সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় রহস্য হলো তাদের খাবার। তারা প্রতিদিন গ্রিলড মাছ, ভাত, সবজি, স্যুপ, ফল এবং গ্রিন টি গ্রহণ করে। তাদের খাবার সাধারণত কম তেলযুক্ত এবং ধীরে রান্না করা হয়।
মাছ তাদের খাদ্য তালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সরবরাহ করে। রুটির পরিবর্তে তারা ভাত খায় এবং সবসময় ব্যালান্সড ডায়েট অনুসরণ করে। গ্রিন টি জাপানিজদের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রধান উপাদান। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বককে ভিতর থেকে পরিষ্কার রাখে। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং শরীর ডিটক্স হয়।
আরও পড়ুন দামি কন্ডিশনার নয় মধুতে লুকিয়ে আছে চুলের আসল সৌন্দর্যজাপানিজদের সৌন্দর্যের রহস্য কোনো জাদু নয়, বরং নিয়মিত যত্ন, প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ফল। তারা ত্বক, চুল ও শরীরের প্রতি প্রতিদিন যত্নশীল থাকেন এবং সহজ কিন্তু শৃঙ্খলাপূর্ণ লাইফস্টাইল অনুসরণ করেন।এই কারণেই তাদের বয়স বাড়লেও সৌন্দর্য ও তারুণ্য অনেকাংশে অটুট থাকে।
সূত্র: ফেমিনা, ভোগ, ব্রাইড সাইট, এনডিটিভি
এসএকেওয়াই