ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক হাজারতম ম্যাচে এস্তাদিও মন্তেরেতে জাপানও আরেকটি ইতিহাস গড়েছে। তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে জাপান। এর আগে টুর্নামেন্টে তাদের সর্বোচ্চ জয়ের ব্যবধান ছিল দুই গোল। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো এশিয়ান দলের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবেও রেকর্ডবুকে জায়গা করে নিয়েছে।
Advertisement
এই জয়ের ফলে নকআউটে ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল ‘সামুরাই ব্লু’রা। অন্যদিকে, এই ম্যাচে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ার।
তবে চার গোলের জয় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি প্রশংসিত হচ্ছে জাপানের খেলার ধরণ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে খেলেছে তারা। জাপান ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে বিশ্ব ফুটবল র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ২০-এর বাইরে যায়নি। এমন একটি দলের কাছ থেকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই প্রত্যাশিত ছিল।
গ্রুপ ‘এফ’-এ বৃহস্পতিবার সুইডেনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হার এড়াতে পারলেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত হবে জাপানের। তবে দলটির উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় আরও একটি শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখার আশা করা যায়। কারণ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে সরব ছিল তারা। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল করা দাইচি কামাদা সেই লক্ষ্য আবারও স্পষ্ট করেছেন।
Advertisement
শনিবারের জয়ের পর ইএসপিএনকে তিনি বলেন, ‘এই তিন পয়েন্ট আমাদের জন্য সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট পাওয়া আমাদের প্রয়োজন ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখনো পরের পর্ব নিশ্চিত করতে পারিনি- প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয়, কোনো অবস্থানেই যেতে পারিনি। তবে আজ অন্তত বলতে পারি, আমরা একটি লক্ষ্য অর্জন করেছি। আমরা সত্যিই এই বিশ্বকাপ জিততে চাই। আশা করি আমি দলকে আরও বেশি সাহায্য করতে পারব।’
তিউনিসিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ের রাতে দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনও এসেছে জাপানি খেলোয়াড়দের ঝুলিতে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমতাসূচক গোল করার পর তিউনিসিয়ার বিপক্ষেও গোল পান কামাদা।
এর মধ্য দিয়ে এক বিশ্বকাপে কোনো জাপানি খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে নাম লেখান তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন জুনিচি ইনামোতো (২০০২), কেইসুকে হোন্ডা (২০১০) এবং রিৎসু দোয়ান (২০২২)।
Advertisement
মজার বিষয় হলো, কামাদার পর আয়াসে উয়েদাও জোড়া গোল করে একই রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। টুর্নামেন্টে আরেকটি গোল করতে পারলেই দু’জনের যে কোনো একজন গড়তে পারেন নতুন ইতিহাস।
কামাদার জন্য এবারের বিশ্বকাপটা যেন ব্যক্তিগত মুক্তির গল্পও। কারণ ২০২২ সালের বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্সে মোটেও সন্তুষ্ট ছিলেন না তিনি। ক্রিস্টাল প্যালেসের এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘সত্যি বলতে, কাতার বিশ্বকাপে আমার পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভালো ছিল না। এবারের বিশ্বকাপের জন্য আমার ভীষণ অনুপ্রেরণা রয়েছে। গত চার বছরে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। সৌভাগ্যক্রমে ইতোমধ্যে দুটি গোল করেছি এবং দলকে সাহায্য করতে পেরেছি। কিন্তু আমি আরও বেশি অবদান রাখতে চাই।’
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সমতাসূচক গোলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুটা ‘মিম’-এর শিকার হয়েছিলেন কামাদা। কারণ গোলটি করার সময় তিনি নিজেও খুব একটা বুঝতে পারেননি কী ঘটেছিল। কর্নার থেকে কোকি ওগাওয়ার হেড তার মাথা ছুঁয়ে জালে জড়ায়।
তিউনিসিয়ার বিপক্ষেও তার গোলটি ছিল অনেকটা হঠাৎ করেই পাওয়া। কেইতো নাকামুরা বাম দিক দিয়ে দারুণ এক আক্রমণ গড়ে ক্রস তুলে বল বাড়িয়ে দেন বক্সে। সেখানে কামাদার গোড়ালিতে লেগে বল জালে ঢুকে যায়।
তবে এবার গোল করার পেছনে অন্তত কিছুটা পরিকল্পনা ছিল কি না- এমন প্রশ্নে হাসিমুখে কামাদা বলেন, ‘নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আমার প্রথম গোলটি সত্যিই, সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার ছিল। আমি আবার গোল করতে চেয়েছিলাম। আজ একটি ‘স্বাভাবিক’ গোল করেছি, তাই এটা আমার জন্য ভালো লাগছে।’
এদিকে, নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে যেন ক্ষতবিক্ষত অবস্থা সুইডেনের। তাদের বিপক্ষে সেই দুর্বলতারই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে জাপান।
আরএএইচইউএল/আইএইচএস