খেলাধুলা

মেসির সঙ্গে সেদিন কী কথা হয়েছিল কুরাসাও গোলরক্ষকের?

আর্জেন্টিনার সঙ্গে ২০২৩ সালে যখন কুরাসাও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে, তখন এই দেশটির নামই শুনেনি অসংখ্য মানুষ। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই কুরাসাওই ইতিহাস গড়লো ইকুয়েডরের বিপক্ষে পয়েন্ট অর্জন করে। আর আজকে পুরো পৃথিবীতে ধ্বনিত হচ্ছে কুরাসাও নামকে একটু পুঁচকে দেশের নাম।

Advertisement

কানসাস সিটির যেই স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন লিওনেল মেসি এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো হ্যাটট্রিক করেন, কুরাসাওর গোলরক্ষক এলয় রুমও সেই স্টেডিয়ামেই ইতিহাসে নিজের নাম লেখান।

৩৭ বছর বয়সী এই এক নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় ইকুয়েডরের বিপক্ষে ০-০ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে নায়ক বনে যান। তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নির্ধারিত সময়ের ম্যাচে সর্বাধিক সেভ (১৫) করা গোলরক্ষকের রেকর্ড গড়েন এবং কুরাসাওকে বিশ্বকাপে পয়েন্ট অর্জনকারী ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে সকলের সামনে প্রতিষ্ঠা করেন।

এলয় রুমের একটা সুন্দর ও আজীবন মনে রাখার মতো ইতিহাস রয়েছে লিওনেল মেসির সঙ্গে। ২০২৩ সালের সেই প্রীতি ম্যাচে মেসি হ্যাটট্রিক করেছিলেন এলয় রুমের বিপক্ষে। ঐ ম্যাচে মেসি পেরিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০০ গোলের মাইলফলক।

Advertisement

ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচের পর এলয় রুম তার জার্সিটি কাউকে দেননি, বরং নিজের কাছেই রেখে দেন। তিনি নিজেই এই ঘটনাকে ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেন। কারণ, তিনি যে জার্সিগুলো চেয়েছিলেন, সেগুলো তার সংগ্রহে ইতোমধ্যেই রয়েছে। প্রথমত, মেসির নিজের জার্সি, যেটি তিনি ২০২৩ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে এবং তারপর জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের জার্সি, যা তিনি গত সপ্তাহে বিশ্বকাপে অভিষেকের সময় পরে ছিলেন।

এলয় রুম মেসির বিপক্ষে ম্যাচের সেই স্মৃতিকে স্মরণ করে বলেন, ‘মেসির বিপক্ষে ম্যাচটি সত্যিই বিশেষ ছিল। তিনি আমার কাছে আমার জার্সিটা চেয়েছিলেন এবং এটা আমার ক্যারিয়ারে সত্যিই বিশেষ একটি মুহূর্ত ছিল। আজকের ম্যাচটিও ছিল অসাধারণ। কিন্তু আমি এই জার্সিটা (আজকের) কাউকে দিচ্ছি না। আমি এটা নিজের কাছেই রাখছি। মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা একজন। আর আমার মাথায় ঘুরছিল, আমার প্রথম ম্যাচেই কি আমি নয়্যারের জার্সি পাব? কিন্তু বাস্তবে, ম্যাচের পর আমাদের কথা হয় এবং তিনি আমাকে তার জার্সিটা দেন। এখন আমার কাছে মেসির জার্সি, নয়্যারের জার্সি আছে এবং আমার জন্য, এটাই যথেষ্ট; খেলা শেষ।’ কাকতালীয়ভাবে, যে দুটি ম্যাচে তিনি তার আইডলদের কাছ থেকে জার্সি পেয়েছিলেন, সেই দুটি ম্যাচেই এলয় রুম সাতটি গোল হজম করেন। ২০২৩ সালের প্রীতি ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানের পরাজয় এবং বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ ব্যবধানের হার। আর্জেন্টিনার সান্তিয়াগো দেল এস্তেরোর এস্তাদিও ইউনিকো স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে এলয় মেসির কাছে এগিয়ে যান, যিনি সঙ্গে সঙ্গে তাকে ১০ নম্বর জার্সিটি দিয়ে দেন। এমনকি তিনি প্রশংসাসহকারে গোলরক্ষকের জার্সিটি ফেরতও চেয়ে বসেন।

২০২৩ সালে কুরাসাওয়ের এই গোলরক্ষক সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম তার হয়তো এটার দরকার নেই। কিন্তু তিনি সঙ্গে সঙ্গেই চাইলেন। তাই আমরা জার্সি বদল করলাম। আমি তাকে অভিনন্দন জানালাম, আর তিনি আমার কয়েকটি সেভের প্রশংসা করলেন। একজন মহান খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এমন কথা শুনতে ভালো লাগে। তিনি খুব ভালো এবং আন্তরিক ছিলেন।’

এলয় রুম সেই জার্সিটি নিজের কাছে রেখেছেন যেটিতে তিনি কাপে নিজের ইতিহাস রচনা করেছিলেন এবং অন্য একটি জার্সিও দেখান। সতীর্থদের সাথে ফলাফল উদযাপনের সময় তিনি একটি সাদা টিশার্ট বহন করছিলেন, যেটিতে কুরাসাওয়ের ইংরেজি ও ডাচ ভাষার পাশাপাশি তিনটি সরকারি ভাষার একটি পাপিয়ামেন্টোতে বিভিন্ন উক্তি এবং জারজিনহো পিটারের একটি ছবি ছিল। কুরাসাও গোলরক্ষকের পরা শার্টের লেখাটি ছিল, ‘এটা তোমার জন্য! খাঁটি ভালোবাসা!’

Advertisement

আরআর/এমএমআর