খেলাধুলা

মেসিদের ম্যাচ, নর্থ টেক্সাস যেন একদিন আগেই এক টুকরো আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সোমবারের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া। এই ম্যাচকে সামনে রেখে নর্থ টেক্সাসজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে তুমুল উচ্ছ্বাস, যার বড় কারণ গত সপ্তাহে কানসাস সিটিতে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক।

Advertisement

ইউলেসে অবস্থিত ‘আর্জেন্টিনা ১৬৩’ রেস্তোরাঁর বাইরে থেকেই বোঝা যাচ্ছে সমর্থকদের উন্মাদনা কতটা। আকাশি-সাদা পতাকা আর জার্সিতে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। আর্জেন্টাইন সমর্থকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আর্লিংটনের ডালাসে এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে মেসির আরেকটি জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখার জন্য।

তবে প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়াকে হালকাভাবে নিতে নারাজ তাদের সমর্থকরা। ছোট দেশ হলেও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিজেদের দলের সম্ভাবনা নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তারা।

শনিবার বিকেলে প্লানোর অস্ট্রিয়ান রেস্তোরাঁ ‘ইয়র্গ’স ক্যাফে ভিয়েনা’ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। বিশ্বকাপ উপলক্ষে টেক্সাসে আসা অস্ট্রিয়ান সমর্থকদের জন্য এটি যেন এক টুকরো স্বদেশে পরিণত হয়েছে।

Advertisement

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় জন্ম নেওয়া রিক গ্রুনবাউম ও ক্যাথরিন স্টেইনবার্গার বর্তমানে নর্থ টেক্সাসে বসবাস করছেন। স্টেইনবার্গার বলেন, ‘এটা দারুণ রোমাঞ্চকর। বিভিন্ন দলকে তাদের নিজস্ব পরিচয়ে দেখতে ভালো লাগে, তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অস্ট্রিয়া জাতীয় দলকে স্বীকৃতি পেতে দেখা বিশেষ কিছু।’

ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলে বসবাসরত অস্ট্রিয়ানদের একত্রিত করা স্থানীয় অস্ট্রিয়ান ক্লাবেই পরিচয় হয়েছিল তাদের। গ্রুনবাউম বলেন, ‘আমরা জীবন উপভোগ করতে ভালোবাসি। এখানকার সংগীতেও সেটা ফুটে ওঠে। আমরা একত্র হই, পরিবারের মতো সময় কাটাই।’

এবারের বিশ্বকাপ অস্ট্রিয়ার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলছে তারা। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের ঠিক আগের দিন ডালাসে অস্ট্রিয়ার নতুন কনস্যুলেট উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।

ডালাসে অস্ট্রিয়ার সম্মানসূচক কনসাল হুবার্ট জায়িচেক বলেন, ‘আপনারা আমাদের জাতীয় রঙই সবচেয়ে বেশি দেখতে পাবেন। অস্ট্রিয়ার পতাকার রঙ লাল ও সাদা, তাই চারপাশ লাল-সাদায় ভরে যাবে। কেউ কেউ ঐতিহ্যবাহী লেডারহোজেন পরে আসবে, আবার অনেকে অস্ট্রিয়ার সংস্কৃতির অন্য নিদর্শনও সঙ্গে আনবে।’

Advertisement

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে হারিয়েছে অস্ট্রিয়া। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও দারুণ সূচনা করেছে, যেখানে মেসি কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।

শনিবার সকালে ডালাসে পৌঁছে সরাসরি ‘আর্জেন্টিনা ১৬৩’-এ চলে আসেন অনেক সমর্থক। আর্জেন্টিনা থেকে আসা ফুটবলপ্রেমী এরিক ভ্রাইলোভস্কি বলেন, ‘বাইরে ফুড ট্রাক, পতাকা আর উৎসবের পরিবেশ দেখে বুঝে গিয়েছিলাম আমরা ঠিক জায়গাতেই এসেছি।’

আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছ থেকে কী আশা করা যায়- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবারিত উল্লাস, বিরামহীন গান আর স্লোগান। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছ থেকে আপনি সব সময়ই এমন পরিবেশ পাবেন। সবাই গান গায়, চিৎকার করে, আর পুরো ব্যাপারটাই ভীষণ উপভোগ্য।’

তবে অস্ট্রিয়ার সমর্থকেরাও প্রস্তুত নিজেদের দলকে জোরালো সমর্থন দিতে। স্টেইনবার্গার বলেন, ‘সত্যি বলতে, ফল যাই হোক না কেন, আমরা উদযাপন করব। হয় আমরা মেসির বিপক্ষে খেলছি, নয়তো মেসিকে হারাচ্ছি। দুই ক্ষেত্রেই উদযাপনের কারণ আছে। থাকবে প্রচুর স্লোগান আর উৎসব।’0

তার সঙ্গে একমত গ্রুনবাউমও। তিনি বলেন, ‘এভাবে দেখলে যেকোনো ফলই আমাদের জন্য আনন্দের। ম্যাচ যেভাবেই শেষ হোক, আমরা উপভোগ করব।’

আরএএইচইউএল/আইএইচএস