একতরফা খেললো বেলজিয়াম। আক্রমণের পর আক্রমণ করলো। কিন্তু ইরানের রক্ষণ আর গোলরক্ষককে হারাতে পারলো না। উল্টো ৬৭ মিনিটে লাল কার্ড দেখে দশজনের দলে পরিণত হয়েছিল বেলজিয়াম। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি হয়েছে গোলশূন্য (০-০) ড্র।
Advertisement
এই ড্রয়ের ফলে ইরান টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ জি-র শীর্ষে উঠে এসেছে। বেলজিয়াম রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। দুই দলেরই সংগ্রহ এখন ২ পয়েন্ট।
লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়েও গোলের দেখা পায়নি বেলজিয়াম। পরিসংখ্যান বলছে, বেলজিয়াম বলের দখলে ছিল ৭০ শতাংশ সময়, সম্পন্ন করেছে ৬২২টি পাস। তবে ২৩টি শট নিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় রুডি গার্সিয়ার দল।
ম্যাচের নায়ক ছিলেন ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। দুর্দান্ত সাতটি সেভ করে তিনি একাই বেলজিয়ামের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের কাছ থেকে আসা কাছাকাছি দূরত্বের শক্তিশালী শট অবিশ্বাস্য প্রতিক্রিয়ায় ফিরিয়ে দিয়ে তিনি ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত উপহার দেন।
Advertisement
প্রথমার্ধে ইরান গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। ২৫তম মিনিটে এহসান হাজিসাফির চমৎকার রিভার্স পাস থেকে মেহদি তারেমি বল জালে পাঠালেও ভিএআর পরীক্ষার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
তবে আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ না পেলেও ইরান বারবার বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলেছে। বিশেষ করে লং থ্রো এবং সেট-পিস থেকে কানানি ও তারেমির জোরালো ভলি শট ঠেকাতে একাধিকবার দক্ষতা দেখাতে হয়েছে থিবো কোর্তোয়াকে।
ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ৬৬তম মিনিটে। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার এনগয়ের অসতর্কতায় বল পেয়ে যান তারেমি। গোলের দিকে এককভাবে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ফাউল করেন এনগয়, ফলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। শেষ ২০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় বেলজিয়ামকে।
সংখ্যায় পিছিয়ে পড়ার পরও বেলজিয়ামই জয়ের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ডি কুইপারের শক্তিশালী শট আবারও ঠেকিয়ে দেন দুর্ভেদ্য বেইরানভান্দ, যিনি শেষ পর্যন্ত নিজের দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেন।
Advertisement
এমএমআর