বর্ষাকালে বৃষ্টি যেমন গরম থেকে স্বস্তি এনে দেয়, তেমনি গাড়ি চালকদের জন্য নতুন কিছু সমস্যাও তৈরি করে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ একটি সমস্যা হলো উইন্ডস্ক্রিন ও জানালার কাচে কুয়াশা জমে যাওয়া। কাচ ঝাপসা হয়ে গেলে রাস্তা স্পষ্ট দেখা যায় না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
Advertisement
অনেক চালক এই সমস্যা সমাধানে বারবার কাচ মুছেন বা এয়ার কন্ডিশনারের সেটিং পরিবর্তন করেন। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন, গাড়ির একটি সাধারণ ফিচার ব্যবহার করেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এই ঝামেলা দূর করা সম্ভব।
কেন কাচে কুয়াশা জমে?বৃষ্টির সময় বাইরের আবহাওয়া তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। অন্যদিকে, গাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় ভেতরে যাত্রীদের শরীরের তাপ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায়।
এই উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস যখন ঠান্ডা কাচের সংস্পর্শে আসে, তখন তা ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। এসব জলকণা কাচের ওপর একটি পাতলা স্তর তৈরি করে, যাকে আমরা সাধারণভাবে কুয়াশা বা ফগ বলে থাকি।
Advertisement
বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, কাচের কুয়াশা দূর করতে এসিই সবচেয়ে ভালো কাজ করে। যদিও এসি বাতাসের আর্দ্রতা কমাতে সাহায্য করে, তবে প্রবল বৃষ্টির দিনে এটি অনেক সময় গাড়ির ভেতর অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
এক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদ্ধতি হলো গাড়ির হিটার ব্যবহার করা। হিটার চালু করে ব্লোয়ারের বাতাস সরাসরি উইন্ডস্ক্রিনের দিকে প্রবাহিত করতে হবে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই কাচ পরিষ্কার হয়ে যায়।
হিটার কীভাবে কাজ করে?হিটার চালু হওয়ার পর গাড়ির ভেতরের বাতাস দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠে। এই গরম বাতাস কাচের ওপর জমে থাকা আর্দ্রতাকে শুকিয়ে দেয় এবং জলকণাগুলো দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়।
ফলে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই সামনের ও পাশের কাচ অনেকটাই স্বচ্ছ হয়ে যায়। একই সঙ্গে গাড়ির অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রাও আরামদায়ক থাকে, যা এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব সময় সম্ভব হয় না।
Advertisement
অনেকেই কাচের কুয়াশা দূর করতে কাপড় বা টিস্যু ব্যবহার করেন। এতে সাময়িকভাবে কাচ পরিষ্কার হলেও প্রায়ই দাগ থেকে যায়। বিশেষ করে রাতে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির আলো সেই দাগে প্রতিফলিত হয়ে দৃষ্টিতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন বৈদ্যুতিক স্কুটারে মাসে বিদ্যুৎ খরচ কততাই বর্ষার দিনে গাড়ি চালানোর সময় কাপড় দিয়ে কাচ মুছার পরিবর্তে হিটার ও ফ্রেশ এয়ার মোডের এই সহজ কৌশল ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। এতে সময় বাঁচবে, দৃশ্যমানতা বাড়বে এবং যাত্রাও হবে অনেক বেশি নিরাপদ।
কেএসকে