দেশজুড়ে

বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ, পুকুর সাঁতরে বাড়ি ফেরে শিক্ষক পরিবার

জমি বিরোধের জেরে দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে এক শিক্ষক পরিবারের। বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়া দিয়ে পথ আটকে দেওয়ায় বাধ্য হয়ে পুকুর সাঁতরে বাড়িতে যাতায়াত করতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। এমন অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার উত্তর সাহেবগঞ্জ এলাকার ফজল বেপারীর বাড়িতে।

Advertisement

ভুক্তভোগী তাছলিমা সুলতানা সাহেবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তার স্বামী মো. রাসেল হোসেন সরকারি চাকরির কারণে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন।

পরিবারটির অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের পথ জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় তারা স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি ও পুকুর সাঁতরে ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে হচ্ছে।

তাছলিমা সুলতানা বলেন, সারাদিন বিদ্যালয়ে শিশুদের পাঠদান শেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরি। কিন্তু নিজের ঘরে প্রবেশের কোনো স্বাভাবিক পথ নেই। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তায় কাঁটাতার ও বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে প্রতিদিন বাড়িতে প্রবেশ করতে হচ্ছে। একজন শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের ওপর এমন অন্যায় ও সামাজিক নির্যাতনের বাস্তব চিত্র না দেখলে কেউ এর গভীরতা উপলব্ধি করতে পারবে না।

Advertisement

তিনি আরও বলেন, শুধু আমাকেই নয়, আমার ছোট সন্তানদেরও একইভাবে পুকুরে নেমে বাড়িতে যাতায়াত করতে হয়। সারাদিন বাচ্চাদের পড়ানো শেষে যখন বাড়ি ফিরি, তখন নিজের ঘরে ঢুকতেও অন্যের অত্যাচার সহ্য করতে হয়। একজন শিক্ষিকা হয়েও আমি আজ নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ ও অসহায়।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে, গত ১৬ জুন তাছলিমা সুলতানা বেড়া পার হয়ে ঘরে প্রবেশ করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা লাসমিন আক্তার দা নিয়ে তাকে আক্রমণের চেষ্টা করেন এবং সোহেল হোসেন প্রকাশ্যে কোপানোর হুমকি দেন। একই সময় মাসুদ হোসেন, মমিন হোসেন, আলমগীর হোসেন রাজা, সোহেল, হান্নানের স্ত্রী লাসমিন আক্তারসহ কয়েকজন মিলে ঘরের কোণে স্থাপিত তিনটি সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন।

এছাড়া গত ১৯ জুন দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে বাড়ির ভবনে স্থাপিত আরও চারটি সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং বাড়ির চারপাশে আরও উঁচু করে বেড়া দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় তারা একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং থানায় অভিযোগ ও মামলাও করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

Advertisement

অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন রাজা ও মাসুদ হোসেন জানান, সামাজিকভাবে বসে বিষয়টির সমাধান করা গেলে তারা বেড়া সরিয়ে নিতে রাজি আছেন। তবে যদি বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকে, তাহলে আদালতের রায় অনুযায়ী তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, কোনো বাড়িতে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন নয়। তবে কী কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ২৪ জুন শুনানির জন্য উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এ ঘটনার বিষয় কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, আমি এই ঘটনা সম্পর্কে অবগত নই। থানায় মামলা বা অভিযোগ হয়েছে কিনা তাও জানি না। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে থানায় আসলে সমাধান করা হবে।

শরীফুল ইসলাম/এনএইচআর/এমএস