খেলাধুলা

ম্যারাডোনার দুঃখের শহরে মেসিদের সাফল্যের লক্ষ্য

ডালাস। আর্জেন্টাইন ফুটবল ইতিহাসে শহরটির নাম উচ্চারিত হলেই ফিরে আসে এক বিতর্কিত স্মৃতি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়ের ম্যাচের পর এই শহরেই শেষবারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে দেখা গিয়েছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে। ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ায় সেই ম্যাচের পরই টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। মাঠ ছাড়ার সময় এক নার্সের হাত ধরে ম্যারাডোনার চলে যাওয়ার সেই ছবি আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্তগুলোর একটি। চার দশক পর সেই ডালাসেই এবার নতুন এক অধ্যায় লিখতে নামছেন লিওনেল মেসি।

Advertisement

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচকে ঘিরে তাই আর্জেন্টিনা শিবিরে শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, আছে আবেগ, স্মৃতি আর উত্তরাধিকার বহনের গল্পও। ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুটা দারুণ করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। সেই ম্যাচের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। আর অস্ট্রিয়াকে হারাতে পারলে নকআউট পর্বও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে আর্জেন্টিনার।

ম্যাচটির বিশেষত্ব আরও একটি কারণে। ২২ জুন দিনটি আর্জেন্টাইন ফুটবলের জন্য ঐতিহাসিক। ঠিক ৪০ বছর আগে এই দিনেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা করেছিলেন ‘হাত দিয়ে গোল’ এবং ‘শতকের সেরা গোল’ দুটি কিংবদন্তি গোল। সেই স্মৃতির দিনে মাঠে নামবে মেসির আর্জেন্টিনা। কোচ লিওনেল স্কালোনিও স্বীকার করেছেন, দিনটি তাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।

আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে ১০ নম্বর জার্সি যেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তর হওয়া এক উত্তরাধিকার। ম্যারাডোনা যেখানে কিংবদন্তি হয়ে উঠেছিলেন, সেখানে মেসি ইতোমধ্যে ২০২২ বিশ্বকাপ জিতে নিজেকে সেই উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এখন তার সামনে সুযোগ আছে আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযানে নতুন অধ্যায় যোগ করার।

Advertisement

ডালাসের মঞ্চে তাই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু একটি গ্রুপ ম্যাচ নয়; এটি যেন ম্যারাডোনার স্মৃতি আর মেসির বর্তমানের মিলনমেলা। আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা অপেক্ষায়, ইতিহাসের শহরে আবারও কি জন্ম নেবে নতুন কোনো কিংবদন্তি মুহূর্ত?

টিটিটী/আইএন