জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়তে থাকা তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলীয় মানুষের জন্য দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো ‘অভিযোজন দুর্গ’ (সোলার চালিত শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের আশ্রয় কেন্দ্র)। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল আফতাবউদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলে স্থাপন করা হয়েছে এই বিশেষ আশ্রয় কেন্দ্র।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টায় দেশের প্রথম এই ‘অভিযোজন দুর্গ’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বড়দল আফতাবউদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ মো. বাবলুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
তীব্র তাপপ্রবাহের সময় সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও শীতল আশ্রয় নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই আশ্রয় কেন্দ্রকে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার মাধ্যমে তাপপ্রবাহ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দশকগুলোতে বাংলাদেশে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব আরও বাড়তে পারে। অতীতে যে ধরনের ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে দেখা যেত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে তা আরও ঘন ঘন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Advertisement
নতুন এই অভিযোজন দুর্গে সৌরবিদ্যুৎ, শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা রাখা হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সংকটের সময়ও আশ্রয়কেন্দ্রটি কার্যকর থাকবে।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সমন্বয়ে এটি পরিচালনা করা হবে। তাপপ্রবাহের সময় শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি এবং পেশাগতভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সাতক্ষীরা উপকূলসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এখন বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এ ধরনের অভিযোজনমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ব্র্যাক (BRAC)-এর জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি।
Advertisement
এরইমধ্যে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বেগমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ‘অভিযোজন দুর্গ’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এমন আরও স্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
আহসানুর রহমান রাজীব/এফএ/এমএস