ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET-UG)-এর পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার শিকার হয়েছেন শত শত পরীক্ষার্থী। যানজট, প্রবেশপত্রের কাগজের জটিলতা এবং কেন্দ্রে প্রবেশের সময়সীমা নিয়ে কড়াকড়ির কারণে বিভিন্ন রাজ্যে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দুপুর ২টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১টা ৩০ মিনিটেই কেন্দ্রের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়ায় তৈরি হয় এই জটিল পরিস্থিতি।
Advertisement
রাজধানী দিল্লিতে এক নারী পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তিনি ঠিক ১টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রের গেটে পৌঁছালেও কর্তৃপক্ষ ফটক খুলতে অস্বীকৃতি জানায়। একই চিত্র দেখা গেছে মুম্বাইয়ের পারেল এলাকার মহর্ষি দয়ানন্দ কলেজে। সেখানে কুর্লা ও ডোমবিভলি থেকে আসা দুই শিক্ষার্থী সামান্য দেরিতে পৌঁছালে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন পরীক্ষা ভারতে, কেন্দ্র আমিরাত: পরীক্ষার্থীর মাথায় হাত!সবচেয়ে নাটকীয় ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে বেঙ্গালুরুতে। সেখানে একটি রাজনৈতিক সমাবেশের কারণে তীব্র যানজটে আটকে পড়েন পরীক্ষার্থীরা। ১টা ৩০ মিনিটে গেট বন্ধ হওয়ার ঠিক দুই মিনিট পর, অর্থাৎ ১টা ৩২ মিনিটে কেন্দ্রে পৌঁছান তিন ছাত্রী। মূল ফটক বন্ধ দেখে তারা মরিয়া হয়ে সীমানা প্রাচীরের রেলিং টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু ততক্ষণে ভেতরের হলের মূল দরজাও লক করে দেওয়া হয়। ফলে ভেতরে ঢুকেও পরীক্ষায় বসতে পারেননি ওই তিন তরুণী।
এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সময়মতোই রওনা হয়েছিলাম, কিন্তু জটলায় আটকে যাই। এভাবে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়া হলো।’
Advertisement
ভোপালে এক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সামান্য দেরিতে কেন্দ্রে পৌঁছালে নিয়মের দোহাই দিয়ে তাকেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। উত্তর প্রদেশে আবার কয়েকজন পরীক্ষার্থী গুগল ম্যাপের ভুল নির্দেশনার কারণে ভুল কেন্দ্রে চলে যান এবং পরে সঠিক কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় পরীক্ষায় বসতে পারেননি। আরেক শিক্ষার্থী বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের সময় পকেট থেকে ছবি হারিয়ে ফেলায় তা আনতে গিয়ে সময় পার করে ফেলেন এবং পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হন।
পরীক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-এর কঠোর নিয়মের কারণেই ১টা ৩০ মিনিটের পর কাউকে প্রবেশাধিকার দেওয়া সম্ভব হয়নি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াকেএএ/
Advertisement