জাতীয়

পুনর্বহালসহ ১০ দাবিতে চট্টগ্রামে ৫ ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের মানববন্ধন

চাকরিতে পুনর্বহালসহ ১০ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন দেশের পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংকের চাকরিচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

Advertisement

সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে কয়েকটি ইসলামী ব্যাংকে ব্যাপক ছাঁটাই ও প্রশাসনিক হয়রানি চালানো হয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের অনেককে শাস্তিমূলক বদলি, আইডি নিষ্ক্রিয়করণ এবং পরে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

Advertisement

অবস্থান কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্বের সুযোগ-সুবিধাসহ পুনর্বহাল, দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন এবং ব্যাংকখাতে সুশাসন নিশ্চিত করা।

এছাড়া ব্যাংকের কার্যক্রমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রাহকদের মধ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে দায়ীদের শাস্তি এবং ৫ আগস্টের পর ব্যাংকখাতে সংঘটিত অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানানো হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো ধরনের মানবসম্পদ নীতিমালা অনুসরণ না করেই আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার ও চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছি।

কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক পরিচালকের কাছে ১০ দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেয়।

Advertisement

এর আগে রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, তথাকথিত দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বহু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যার ফলে হাজারো পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এমআরএএইচ/ইএ