ক্যাম্পাস

শাবিপ্রবিতে সাবেক প্রক্টরের পুনর্বাসনের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (এফইএস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

রোববার (২১ জুন) নিজ বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই প্রক্টরকে। এ ঘটনায় জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে পানিতে পড়ে মারা যান শাবিপ্রবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স (সিইপি) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রুদ্র সেন। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৭৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন শাবিপ্রবির সাবেক সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম। ওই মামলায় আসামি করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য, উপ উপাচার্য ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে।

শিক্ষার্থীরা জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় সাবেক এই প্রক্টরের নির্দেশে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে সম্প্রতি তাকে ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। গত সপ্তাহে গ্র্যাজুয়েট স্কুল কমিটির (জিএসসি) একটি সভায়ও অংশ নেন তিনি। সর্বশেষ নিজ বিভাগের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করতে দেখা যায় তাকে।

Advertisement

শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব মো. রিয়াজ হোসেন (রিমন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে নেমেছে। বিগত প্রশাসনের আমলে রুদ্র সেন হত্যার আসামিরা কখনো ক্যাম্পাসে ঢোকার সাহস দেখায়নি। কিন্তু বর্তমানে তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পায়। প্রশাসনকে ধিক্কার জানাই।

ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (এফইএস) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেদোয়ান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তিনি নিজে থেকেই এসেছেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি বিভাগে আসেননি। তার আসার বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না।’ শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণের বিষয়ে তিনি বলেন, তখন আমরা সব শিক্ষক স্টেজে উঠেছিলাম। সবার সঙ্গে তিনিও স্টেজে উঠেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টরকে ডেকেছিলাম, এ বিষয়ে কথা বলেছি। কেউ যদি দোষী হয়, প্রশাসন অবশ্যই কোনো দোষী ব্যক্তিকে সমর্থন করবে না। শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের সঙ্গে কারও সম্পর্ক থাকলে আমরা কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেব না। আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না।’

অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়গুলো সম্পর্কে আগে আমাকে জানতে হবে।’

Advertisement

এসএইচ জাহিদ/এএইচ/এমএস