কিছু ফল সারা বছর পাওয়া যায়, কিছু ফল পাওয়া যায় ভিন্ন ঋতুতে। কিছু ফল আমাদের দেশের, কিছু বিদেশি জাতের আর আমদানি করা। প্রতিটি ফলই পুষ্টিতে ভরা। কিন্তু কোন ফলে কী খাদ্য উপাদার বা পুষ্টি পাওয়া যায় তা কি আমরা জানি? জানা থাকলে ফলটির প্রতি আগ্রহ যেমন বাড়ে, তেমনি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি মেটাতে ভুল হয় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ফরে কী পুষ্টি উপাদান থাকে।
Advertisement
আমড়ায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ক্যারোটিন, পেকটিন ও ফাইবার রয়েছে। তিনটি আপেলের চেয়ে একটি আমড়ার পুষ্টিগুণ বেশি। আমড়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, রক্তস্বল্পতা দূর করে, বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। আমড়ায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক, চুল ও নখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
আমলকীআমলকীতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি রয়েছে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, মৌসুমি সর্দি-কাশি কমাতে, মুখের রুচি বাড়াতে, ত্বক ও চুল সুন্দর রাখতে, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এ ফল।
বাতাবিলেবুবাতাবিলেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যারোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সোডিয়াম। বাতাবিলেবু খেলে পেশির দুর্বলতা, ব্যথা দূর হয়। ওজন ও অ্যাসিডিটি কমায়। ক্যানসার প্রতিরোধে এ ফল বেশ সহায়ক।
Advertisement
একটি পেয়ারায় চারটি কমলালেবুর চেয়েও বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে। এতে প্রচুর ভিটামিন এ, বি, সি ও কে এবং ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার রয়েছে। এতে থাকা ভিটামিন এ চোখের জন্য ভালো। পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুবই উপকারী।
জামরুলজামরুল যকৃতের কোষ ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করে। সুগার ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
লটকনলটকন হাড়, দাঁত মজবুত রাখে। ক্যালরি কম থাকায় ওজন কমাতে সাহায্য করে। চোখের জন্য ও এই ফল বেশ উপকারী।
কামরাঙাকামরাঙায় ভিটামিন এ-সহ নানা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কামরাঙা সাহায্য করে। ভিটামিন সি বেশি থাকায় কামরাঙা খেলে স্কার্ভি রোগ দূর হয়।
Advertisement
গরমের সময় পরিশ্রমের পর বেলের শরবত খেলে কান্তি ভাব দূর হয়। বেলের ভিটামিন 'এ' চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর পুষ্টি জোগায়। ফলে চোখের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বেল পেটের নানা অসুখ সারাতে অত্যন্ত কার্যকর। দীর্ঘমেয়াদি আমাশয় ও ডায়রিয়া রোগে কাঁচা বেল নিয়মিত খেলে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। বেলের শাঁস পিচ্ছিল বলে এই ফল পাকস্থলীর জন্য উপকারী। খাবারও সঠিকভাবে হজম করতে সাহায্য করে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
গাবপ্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে গাবে। যারা ওজনহীনতা ও নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য গাব খুবই উপকারী। এ ফল দুর্বলতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
কলাকলার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা অসাধারণ। এটি পটাসিয়াম, ভিটামিন বি ৬, এবং ভিটামিন সি-তে সমৃদ্ধ, যা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কলা শক্তি জোগাতে সহায়ক এবং দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে পরিচিত। এটি হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে। এছাড়াও, কলা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, কারণ এতে ট্রিপ্টোফান রয়েছে, যা ডোপামিনের উৎপাদনে সহায়তা করে। নিয়মিত কলা খাওয়া শরীরের সুষম পুষ্টি বজায় রাখতে সহায়ক। তাই কলাকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
পেঁপেপেঁপে একটি পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর ফল, যা শরীরের জন্য নানা উপকারিতা প্রদান করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, এবং ই পাওয়া যায়, যা ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী। পেঁপেতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলী শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
এছাড়া পেঁপে হৃদরোগ প্রতিরোধ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এই ফলটি নিয়মিত খেলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর হয় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।
নারিকেলনারিকেল এক বিশেষ ধরনের ফল, যা পুষ্টিগুণে ভরপুর। নারিকেলের পানিতে প্রচুর পরিমাণে ইলেকট্রোলাইট ও ভিটামিন রয়েছে, যা শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করতে সহায়ক। নারিকেলের শাঁস থেকে প্রাপ্ত ফ্যাট ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সহায়তা করে।
এছাড়া নারিকেল প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, এবং ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ, যা হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে। নারিকেলের তেল ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা হয় এবং চুলের জন্যও খুব উপকারী। এই ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
লেবুলেবু একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল, যা প্রচুর ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক এবং শরীরের ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। লেবুর রস হজমে সহায়ক এবং ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া লেবু রক্তের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। লেবুতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। প্রতিদিন লেবু পানি পান করলে শরীর ডিটক্সিফাই হয় এবং শরীর সতেজ থাকে।
আপেলআপেল একটি জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আপেলের আঁশ হজমে সহায়তা করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আপেলে ক্যালোরির পরিমাণ কম, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। নিয়মিত আপেল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ত্বক ও চুল ভালো থাকে। তাই প্রতিদিন একটি আপেল খেলে শরীর ভালো থাকে।
আরও পড়ুন জানেন কি দিনে কয়টি লিচু খাওয়া নিরাপদ? কমলাকমলা একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল যা বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ। এতে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। এছাড়া কমলাতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান দেহের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেল থেকে রক্ষা করে। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং হজম শক্তি উন্নত করে।
কমলার ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে সুগঠিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কমলার পটাশিয়াম হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত কমলা খেলে ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং দেহের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখা যায়।
ড্রাগন ফলড্রাগন ফল একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল যা আমাদের শরীরের জন্য নানা ধরনের উপকারিতা নিয়ে আসে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
এছাড়া ড্রাগন ফল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকারক ফ্রি র্যাডিক্যাল থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আঙুরআঙুর একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আঙুর হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
এছাড়া এটি ত্বকের যত্নে সহায়ক এবং বার্ধক্যের লক্ষণ কমাতে ভূমিকা রাখে। আঙুর ফাইবারের ভালো উৎস হওয়ায় হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। এছাড়া এটি কিডনির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। আঙুরের নিয়মিত সেবন শরীরকে সতেজ ও শক্তিশালী রাখে।
আনারসআনারস একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল যা ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এতে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি থাকে, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আনারসে থাকা ব্রোমেলিন নামক এনজাইম হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক।
এছাড়া এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আনারসের ফাইবার উপাদান হজমে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও আনারস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত আনারস খেলে শরীরের পানি শূন্যতা কমে এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।
আরও পড়ুন করমচা খেলে কী হয়? জানুন এর স্বাস্থ্য উপকারিতা ডালিম বা আনারফল হিসেবে ডালিম বা আনার অত্যন্ত পুষ্টিকর ও উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার এবং ফোলেট রয়েছে। ডালিম রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা বাড়াতে সহায়ক এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
এছাড়া ডালিমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং বার্ধক্যজনিত প্রক্রিয়া ধীর করে। বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধেও ডালিম কার্যকর। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ডালিম উপকারী কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
আরএমডি/ এসএকেওয়াই