রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে গবেষণার জন্য সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) আনা হয়েছে। অ্যালবিনো জাতের মহিষটি বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর আশপাশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না কাউকে।
Advertisement
বিএলআরআই কর্মকর্তারা জানান, রোববার (২১ জুন) প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে মহিষটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএলআরআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিএলআরআই কর্তৃপক্ষ মহিষটির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। এটি নিয়ে গবেষণা করতে মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গৌতম কুমার দেবকে প্রধান করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গৌতম কুমার দেব বলেন, ‘মহিষটি কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যেহেতু মহিষটি চিড়িয়াখানায় ছিল, তাই আগামী ১৪-২১ দিন পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। প্রাণীটি রোগমুক্ত কি না সেটি নিশ্চিত হওয়া এবং রোগমুক্ত রাখার বিষয়টি এসময়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। এরপর মহিষটি কীভাবে গবেষণায় ব্যবহার করা যায় সেটি নিয়ে ভাবা হবে।’
Advertisement
এদিকে, মহিষটির আগমন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যাতায়াতে বিধিনিষেধে আরোপ করা হয়েছে। মহিষটির পাশে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদেরও অনুমতি মিলছে না।
ঈদুল আজহার আগে মহিষটি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় জিয়া উদ্দিন মৃধার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ লালন-পালন করা হচ্ছিল। মহিষটির চুলের স্টাইল দেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে এর নাম রাখা হয়। পরে মহিষটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এমনকি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নেয় মহিষটি।
পরে মহিষটি বিক্রি করা হয় কেরানীগঞ্জের জিনজিরার মনিরুজ্জামানের কাছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ২৫ মে নারায়ণগঞ্জের খামার থেকে মহিষটি কেরানীগঞ্জে নিজের বাড়িতে আনেন মনিরুজ্জামান।
ঈদের আগের দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে মহিষটি মনিরুজ্জামানের বাড়ি থেকে নিয়ে আসে পুলিশ। শুরুতে কেরানীগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। পরে মহিষটির ঠাঁই হয় মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়।
Advertisement
মাহফুজুর রহমান নিপু/এসআর/জেআইএম