খেলাধুলা

বজ্রপাতের আতঙ্কে ম্যাচ বন্ধ, এমবাপ্পেদের সময় কাটল যেভাবে

চলতি বিশ্বকাপে সোমবার ফ্রান্স ও ইরাকের মধ্যকার ম্যাচ বজ্রপ্রাত ও বৃষ্টির কারণে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি শেষ হয় রাত ৮টা ৪৭ মিনিটে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় খেলা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ রাখতে হয়।

Advertisement

শুধু খেলোয়াড় বা কোচ নন, ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৬৮ হাজার ৩৪৪ দর্শকের জন্যও রাতটি ছিল চ্যালেঞ্জিং।

প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। স্থানীয় সময় ৫টা ৪৯ মিনিটে শেষ হয় প্রথমার্ধ। এর আগে থেকেই বৃষ্টি থাকলেও বিরতির সময় বজ্রপাত শুরু হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে হতে বাজে রাত ৮টা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মাঠে নেমে সময় নষ্ট করতে চায়নি ফ্রান্স। আরও দুটি গোল করে ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জোড়া গোল করেন। এই জয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করে ফরাসিরা।

দীর্ঘ বিরতির কারণে দ্বিতীয়ার্ধে কোনো 'হাইড্রেশন ব্রেক' রাখা হয়নি। ম্যাচ শেষে অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয় মাত্র দুই মিনিট। ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, 'এটা খুব দীর্ঘ একটা সন্ধ্যা ছিল। আমরা অনেক সময় অপেক্ষা করেছি। ড্রেসিংরুমে পুরো সময় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং মনোযোগ ধরে রাখা খুবই কঠিন ছিল। দেড় থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ড্রেসিংরুমে বসে থেকেও মনোযোগ ধরে রাখা সহজ নয়। এটা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অনেক কিছু দাবি করে। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ সবাই দারুণ পরিশ্রম করেছে।"

Advertisement

বিরতিতে কী করছিলেন ফরাসি ফুটবলাররা! এমন প্রশ্নের উত্তরে মজা করেই ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, 'আমরা তাস খেলছিলাম।'পরে অবশ্য হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, 'না, আসলে আমরা অপেক্ষাই করছিলাম। বারবার বলা হচ্ছিল, আরেকটু পরে খেলা শুরু হবে।'

দেশম বলেন, 'আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময়টা উপভোগ করেছি, গল্প করেছি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নিরাপত্তা। বৃষ্টি আর বজ্রপাতের সঙ্গে তো লড়াই করা যায় না। এসব নিয়ে আমার কোনো বিরক্তি নেই। পরিস্থিতি ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী। আশা করি, এমন পরিস্থিতি আর আসবে না। ঝুঁকি না নেওয়াটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।'

এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপের ৪২তম ম্যাচ। আর এই প্রথম কোনো ম্যাচ আবহাওয়ার কারণে বন্ধ রাখতে হলো। বিরূপ আবহাওয়ার ক্ষেত্রে ফিফা নিজস্ব নিয়ম প্রয়োগ করতে পারে না। আয়োজক দেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এ ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)-এর নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়। তাদের নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলেই ম্যাচ বন্ধ রাখতে হবে।

খেলোয়াড়রা প্রায় এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর আবার ওয়ার্ম-আপে মাঠে নামেন। কিন্তু তখনও মাঠে জমে থাকা পানি সরাতে স্টেডিয়াম কর্মীদের বিশেষ যন্ত্র দিয়ে কাজ করতে হওয়ায় খেলা আরও কিছুটা দেরিতে শুরু হয়। খেলা শুরু হওয়ার পর গোলকিক থেকে ভুল করে বসে ইরাক। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে।

Advertisement

ইরাকের অস্ট্রেলিয়ান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড মনে করেন, দীর্ঘ বিরতিই হয়তো সেই ভুলের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, 'আবার মাঠে নামার আগে আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, মানসিকভাবে কে বেশি প্রস্তুত থাকতে পারে সেটাই বড় বিষয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি ভুল আমাদের বড় মূল্য দিতে হয়েছে।

দুই ঘণ্টার বিরতি খেলোয়াড়দের জন্য বিষয়টি অনেক কঠিন করে তুলেছিল। কোচ বা খেলোয়াড় হিসেবে এই প্রথম এমন অভিজ্ঞতা হলো আমার।'

সাবেক ওয়েস্ট হ্যাম সহকারী কোচ এবং বর্তমানে স্পোর্টিং কানসাস সিটির সহকারী প্রধান কোচ এদু রুবিও জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত দলগুলো কীভাবে সময় কাটায়। তার ভাষায়, 'দুই বছর আগে ফ্লোরিডায় প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচের সময় আমাদের চারটি ম্যাচের মধ্যে দুটি ঝড়ের কারণে বন্ধ হয়েছিল। এখানে এসব নিয়ম খুব কঠোরভাবে মানা হয়, এবং সেটাই সঠিক। সব দল একইভাবে পরিস্থিতি সামলায় না। আমরা ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতাম এবং প্রতি ২০ মিনিট পরপর নতুন তথ্য পেতাম।'

রুবিও জানান, "প্রথম ২০ মিনিট খেলোয়াড়রা আরামেই ছিলেন। এরপর তারা ওয়ার্ম-আপের পোশাক পরে নেয়। কেউ সাইক্লিং করেছে, কেউ স্ট্রেচিং, কেউ আবার যোগব্যায়াম করেছে। এরপর যেহেতু বিরতি ৪৫ মিনিটের মতো ছিল, তাই ফুটবল-টেনিস খেলিয়ে তাদের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি দুই মিনিটের ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে কিছু বিষয় মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যোগব্যায়াম, গান, একটু বিশ্রাম—এভাবেই সময় কাটিয়েছিলাম। তবে বিরতি যদি ৪৫ মিনিটের বেশি হতো, তাহলে কী করতাম, সত্যি বলতে জানি না।'

এসকেডি/এএসএম