প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মত শক্তিশালী দেশকে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। জোড়া গোল করেছিলেন হ্যারি কেইন। অন্যদিকে পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ঘানা। দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাসাসুসেটসে মুখোমুখি হলো ইংল্যান্ড এবং ঘানা। শক্তির বিচারে দুই দলের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। কিন্তু ম্যাচের প্রথমার্ধে এই পার্থক্য বোঝা যায়নি। ইংল্যান্ডকে গোলই করতে দেয়নি ঘানা।
Advertisement
ঘানার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে প্রত্যাশিত ছন্দ খুঁজে পায়নি ইংল্যান্ড। বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বলের দখল এবং আক্রমণের বেশিরভাগ সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও সুসংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ঘানার রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় থমাস টুখেলের দল। ফলে বিরতিতে যাওয়ার সময় স্কোরলাইন ছিল ০-০।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ড বলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ডিফেন্স থেকে ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা চালায় জুদ বেলিংহাম, ডেকলান রাইস, হ্যারি কেইন ও ননি মাদুয়েকেরা; কিন্তু ঘানা নিজেদের অর্ধে প্রায় পুরো দলকে নামিয়ে এনে রক্ষণ সামলাতে থাকে। ফলে ইংল্যান্ডের আক্রমণ বারবার থেমে যায় শেষ তৃতীয়াংশে।
ষষ্ঠ মিনিটে মাদুয়েকেকে ফাউল করে ঘানা একটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিক উপহার দিলেও ডেকলান রাইসের নেওয়া বল প্রথম ডিফেন্ডারই ক্লিয়ার করে দেন। এরপর ১২ মিনিটে মাদুয়েকের পাস থেকে রিস জেমস বল কাট-ব্যাক করলেও থমাস পার্টে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেপশনে বিপদমুক্ত করেন ঘানাকে।
Advertisement
১৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি-কিক সরাসরি শটে রূপ দেন রাইস। তবে তার জোরালো প্রচেষ্টা গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। ১৬ মিনিটে অ্যান্ডারসনের শট ব্লক হওয়ার পর মাদুয়েকে প্রায় সুযোগ পেয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ডেনিস ওদোই ও মেনসাহদের দৃঢ়তায় সে আশাও শেষ হয়ে যায়।
ইংল্যান্ড ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে প্রায় ৮৮ শতাংশ বলের দখল ধরে রাখলেও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ঘানা মূলত কাউন্টার অ্যাটাকের অপেক্ষায় ছিল এবং নিজেদের রক্ষণভাগকে অত্যন্ত সঙ্কুচিত রেখে ইংলিশদের জায়গা তৈরি করতে দেয়নি।
২১ মিনিটে রিস জেমস ও আন্দ্রে আইউয়ের মাথায় মাথায় সংঘর্ষে কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধ থাকে। চিকিৎসার পর দুজনই মাঠে ফিরলেও ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। পরে নির্ধারিত হাইড্রেশন বিরতিতেও খেলোয়াড়রা বিশ্রামের সুযোগ পান।
হাইড্রেশন বিরতির পরের অংশে ইংল্যান্ড কিছুটা আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। ৩৪ মিনিটে মাদুয়েকে ডান প্রান্ত থেকে একাধিক ডিফেন্ডারকে ব্যস্ত রাখলেও তার ক্রস কেইনের কাছে পৌঁছানোর আগেই ঘানার ডিফেন্স ক্লিয়ার করে। ৩৭ মিনিটে মাদুয়েকের উঁচু ক্রস থেকে ডেকলান রাইস হেড নিলেও বল গোলের ওপর দিয়ে চলে যায়।
Advertisement
ঘানাও শেষদিকে কিছুটা সাহসী ফুটবল খেলতে শুরু করে। সেমেনিও নিজের শক্তি কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডের বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেন, আর আন্দ্রে আইউও কয়েকবার আক্রমণ সংগঠনের উদ্যোগ নেন। যদিও জর্ডান পিকফোর্ডকে খুব বেশি পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি আফ্রিকান দলটি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে অবশেষে ইংল্যান্ড সবচেয়ে ভালো সুযোগটি পায়। ৪৯ মিনিটে হ্যারি কেইন বক্সের সামনে বল পেয়ে বাঁ পায়ের শট নেন। তবে সেটি দুই ঘানার ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নারের বিনিময়ে বেরিয়ে যায়। কর্নার থেকেও কোনো ফল পায়নি ইংল্যান্ড।
প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। চলতি বিশ্বকাপের এটিই প্রথম ম্যাচ যেখানে বিরতির আগে কোনো শট অন টার্গেট হয়নি। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে রাখার কৃতিত্ব তাই ঘানার সংগঠিত রক্ষণকেই দিতে হবে।
পরিসংখ্যান বলছে, গোল না পেলেও জয়ের সম্ভাবনায় এখনও এগিয়ে ইংল্যান্ড। অপ্টা সুপারকম্পিউটার বিরতির সময় থ্রি লায়ন্সের জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছে ৭৩.৯ শতাংশ। তবে ম্যাচে এগিয়ে যেতে হলে দ্বিতীয়ার্ধে টুখেলকে নতুন কৌশল বের করতে হবে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তার বিরতির নির্দেশনা ইংল্যান্ডকে জয়ের পথে ফিরিয়েছিল। এবারও ইংলিশ সমর্থকরা সেই জাদুরই অপেক্ষায়।
অন্যদিকে কার্লোস কুইরোজ নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট থাকবেন তার দলের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে। রক্ষণে শৃঙ্খলা, মাঝমাঠে পরিশ্রম এবং সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা- সব মিলিয়ে ঘানা এখনও গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্টের স্বপ্ন দেখছে।
আইএইচএস/