প্রবাস

শিক্ষা সফরে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের ৮ উপাচার্য, যৌথ গবেষণায় জোর

শতদল তালুকদার, সিডনি থেকে

Advertisement

অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস সাউথ এশিয়া অ্যান্ড মঙ্গোলিয়া’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জ্যেষ্ঠ প্রশাসকদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফর করছে।

১৩ থেকে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত এই স্টাডি ট্যুরের মূল লক্ষ্য হলো অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, গবেষণা, নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা।


এই প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন উপাচার্যসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক অংশগ্রহণ করেন। তারা মেলবোর্ন, ব্রিসবেন এবং সিডনির বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, গবেষণা তহবিল, আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় করেন।



Advertisement

সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদল ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন, ডিকিন ইউনিভার্সিটি, মোনাশ ইউনিভার্সিটি, গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস এবং চার্লস ডারউইন ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন।

বিভিন্ন রাউন্ডটেবিল আলোচনা, নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মশালা এবং নেটওয়ার্কিং সেশনে অংশ নিয়ে তারা অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতের সফলতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।



সিডনি সফরের এক পর্যায়ে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি (UTS)-এর সিনিয়র লেকচারার ড. সুভাষ সাহার আমন্ত্রণে তার বাসভবনে নৈশভোজে মিলিত হন।

এই সৌহার্দ্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপাচার্যরা তাদের সহকর্মী এবং সিডনিতে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ অংশগ্রহণ করেন। নৈশভোজে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

Advertisement

একই সঙ্গে স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ব‍্যক্তিগত সম্পর্ক জোরদারের সুযোগও সৃষ্টি হয়।
ড. সুভাষ সাহা বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের নেতৃত্বের সঙ্গে এমন একটি মিলনমেলা ভবিষ্যতে গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাথে কলাবরেশন করছি। বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমার কাছে পিএইচডি করছে এবং করেছে।’


উপাচার্যরা বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, এই ধরনের স্টাডি ট্যুর কেবল অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগই তৈরি করে না, বরং যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ অ্যাকাডেমিক অংশীদারত্বের ভিত্তিও সুদৃঢ় করে।
অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডসের এই উদ্যোগকে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিককরণের প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।

এমআরএম