ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে ‘আই অ্যাম নট অ্যা রোবট’ প্রমাণ করার জন্য ক্যাপচা পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন প্রায় সবাই। কখনো ট্রাফিক সিগন্যাল, কখনো বাস বা সাইকেলের ছবি বেছে নিতে হয়। তবে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে এই পরিচিত পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আর সেই কারণেই মানুষ ও বট আলাদা করতে নতুন সমাধান নিয়ে কাজ করছে গুগল।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ইন্টারনেটে স্বয়ংক্রিয় বটের উপস্থিতি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। এমনকি ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথু প্রিন্স সম্প্রতি দাবি করেছেন, অনলাইনে মানুষের চেয়ে বটের সংখ্যাই বেশি হতে পারে। এই বাস্তবতায় প্রচলিত ক্যাপচা ব্যবস্থার বিকল্প খুঁজছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।
আরও পড়ুন গুগলে মেসির নাম সার্চ করলেই চমকে যাবেনগুগলের পরীক্ষাধীন নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর ডিভাইসের ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হবে। অনুমতি দিলে ক্যামেরার মাধ্যমে হাতের সংক্ষিপ্ত নড়াচড়ার একটি ভিডিও ধারণ করা হবে। এরপর বিশেষ অ্যালগরিদম হাতের বিভিন্ন বিন্দু ও গতিবিধি বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করবে, ব্যবহারকারী প্রকৃত মানুষ নাকি স্বয়ংক্রিয় কোনো বট।
গুগল জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য শুধু মানব উপস্থিতি যাচাই করা। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত পরিচয় শনাক্ত বা সংরক্ষণের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ভিডিওতে কোনো অডিও রেকর্ড করা হবে না এবং যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর ধারণকৃত ভিডিওও মুছে ফেলা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
Advertisement
তবে নতুন এই প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক নয়। যারা ক্যামেরা ব্যবহার করতে চান না, তারা আগের মতোই ছবি বা অন্যান্য ক্যাপচা চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় যাচাই করতে পারবেন। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থা চালু হলেও প্রচলিত ক্যাপচা পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে না।
গুগলের মতে, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় টুল ব্যবহার করে ছবি-ভিত্তিক ক্যাপচা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বটের পক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়া আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। অন্যদিকে মানুষের স্বাভাবিক হাতের নড়াচড়া ও ভঙ্গি অনুকরণ করা তুলনামূলক কঠিন, তাই এই পদ্ধতিকে আরও নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন বিশ্বকাপের উন্মাদনা হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামেওতবে প্রযুক্তিটি ঘোষণার পর গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অনেক ব্যবহারকারী। ক্যামেরা-নির্ভর যাচাই ব্যবস্থা ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। যদিও গুগল জোর দিয়ে বলেছে, নতুন ফিচার ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি মাথায় রেখেই তৈরি করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি জগতের পর্যবেক্ষকদের মতে, বট ও মানুষের পার্থক্য নির্ণয়ে ভবিষ্যতে আরও উন্নত বায়োমেট্রিক ও আচরণভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হতে পারে। গুগলের এই উদ্যোগ সেই পরিবর্তনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Advertisement
কেএসকে