আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ায় বার্ড ফ্লু আতঙ্ক,পরীক্ষার কার্যক্রম জোরদার

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চমাত্রার সংক্রামক এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর দুটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর নজরদারি ও পরীক্ষার কার্যক্রম জোরদার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ পাপুয়া নিউগিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে সব ধরনের পোলট্রি ও পোলট্রি পণ্য আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

Advertisement

অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসির খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় আরও কয়েকটি মৃত পাখির নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফাউলার্স বে এলাকায় দুটি সাব-অ্যান্টার্কটিক সামুদ্রিক পাখি এবং একটি পেলিকান মৃত অবস্থায় পাওয়ার পর নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রিজমন্ত্রী ক্লেয়ার স্ক্রিভেন জানান, নমুনা পরীক্ষার ফল পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি ভাইরাসটি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে না, তবে সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

রাজ্যটির কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় কোনো নিশ্চিত বার্ড ফ্লু সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। তবে অসুস্থ বা মৃত পাখির যেকোনো ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে দ্রুত জনসাধারণকে জানানো হবে।

Advertisement

এদিকে সি-লায়ন প্রজনন কেন্দ্রগুলোতে স্থলভিত্তিক নজরদারি ও ড্রোন জরিপ চালানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়াতেও আরও দুটি পাখির নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন পর্যন্ত ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত তিন দিনে মৃত বা অসুস্থ পাখি সংক্রান্ত ৯৪টি প্রতিবেদনের মধ্যে ১১টি নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

বার্ড ফ্লুর ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর পাপুয়া নিউগিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে পোলট্রি মাংস ও অন্যান্য পোলট্রি পণ্য আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। যদিও অস্ট্রেলিয়ার খামারভিত্তিক পোলট্রি খাত এখনো বার্ড ফ্লুমুক্ত রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পাপুয়া নিউগিনি ছিল অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় পোলট্রি রপ্তানি বাজার। ওই বছর দেশটিতে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের পোলট্রি পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

Advertisement

অস্ট্রেলিয়ার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে তারা পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

২০২৫ সালের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার উপ-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল হার্ড আইল্যান্ডে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হলেও মূল ভূখণ্ডে এবারই প্রথম এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর নিশ্চিত ঘটনা পাওয়া গেল।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম