খেলাধুলা

হ্যারি কেইনকে ‘কালো জাদু’ করে গোল মিস করিয়েছেন ঘানার তান্ত্রিক!

খেলাধুলায় কুসংস্কার গভীরভাবে প্রচলিত। ক্রীড়াবিদরা সাধারণত নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলেন। সৌভাগ্যসূচক জিনিস পরেন এবং এমন সব আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন যা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী খেলার ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

Advertisement

কিন্তু এমনটা রোজ রোজ ঘটে না যে, কেউ প্রকাশ্যে ঘোষণা করছে যে সে বিশেষভাবে কোনো প্রতিপক্ষকে থামানোর জন্য কোনো আচার-অনুষ্ঠান পালন করছে। ঘানার মুখোমুখি হওয়ার আগে ইংল্যান্ডের জন্য ঠিক এমনটাই ঘটেছিল।

যদিও অনেকেই জাদুবিদ্যায় বিশ্বাস করতেও পারেন বা নাও পারেন। তবে, ঘানার একজন তান্ত্রিক স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, তার লক্ষ্য ছিল ইংল্যান্ডের ওপর এবং আরও নির্দিষ্টভাবে হ্যারি কেইনের ওপর জাদু চালান দেওয়া। যাতে তিনি ঘানার বিপক্ষে গোল করতে না পারেন।

সংশয়বাদীরা হয়তো এই ধরনের বিশ্বাসকে উড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু ইংল্যান্ড ঘানার রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি এবং ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগ পেয়েও কেইন গোল করতে ব্যর্থ হন। জালে বল জড়ানোর পরিবর্তে তার বল গ্যালারিতে গিয়ে পড়ে, ফলে ইংল্যান্ড সেই তিন পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি; যা তাদের জয় এনে দিতে পারতো।

Advertisement

গোলের সামনে ইংল্যান্ডের এই সংগ্রাম দ্রুতই নানা নওয়াকু বনসামের কথার দিকে মনোযোগ ফিরিয়ে আনে। তান্ত্রিক কখনো দাবি করেননি যে, তিনি কেইনের ক্ষতি করতে চেয়েছিলেন। বরং তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন যাতে কেইন গোল করতে না পারেন এবং ইংল্যান্ডকে রাউন্ড অফ সিক্সটিনের কাছাকাছি যেতে সাহায্য করতে না পারেন।

পরিসংখ্যান এই আলোচনাকে আরও উস্কে দিয়েছিল। ইংল্যান্ড ম্যাচটি শেষ করেছিল ১৮টি শট নিয়ে, কিন্তু তার মধ্যে মাত্র চারটি ছিল লক্ষ্যে। পুরো খেলা জুড়ে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হতে থাকায় কিছু ভক্তের পক্ষে এই অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী উপেক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

কেইনের যে মিসটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, সেটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াসহ সব জায়গায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্ট্রাইকার গোলপোস্টের সামনে চলমান বলটি পেয়ে বাঁ পায়ে শট নেন, কিন্তু জালে না জড়িয়ে বলটি দর্শকদের গ্যালারির মধ্যে উঁচুতে চলে যায়।

অনেকেই এখন পুরো ঘটনাটিকে নিছক কাকতালীয় বলে মনে করেন। অন্যরা বিশ্বাস করেন যে, ইংল্যান্ডের গোল করতে না পারার পেছনে আরও বড় কোনো কারণ ছিল। যারা এই বিশ্বাসগুলো অনুসরণ করেন, তাদের কাছে মাঠের ঘটনাগুলো তান্ত্রিকের সতর্কবাণীর সাথে পুরোপুরি মিলে গিয়েছিল।

Advertisement

এই আলোচনা এখন ইংল্যান্ডের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। কিছু সমর্থক ইতোমধ্যেই জল্পনা করছেন যে, পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ক্রোয়েশিয়া এবং লুকা মড্রিচ।

‘বাজে ফিনিশিং, দুর্ভাগ্য, নাকি আরও রহস্যময় কিছু’-এই বিতর্ক সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেয়ে গেছে। বহু ভক্ত নিশ্চিত যে ইংল্যান্ড ও হ্যারি কেইনের সাথে যা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই কাকতালীয় ছিল না।

আরআর/এমএমআর