গণ বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল ক্লাবের (জিবিসিসি) আয়োজনে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হলো রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের আইকিউএসি সভাকক্ষে কবিগুরুর কোমল গীতিধারা আর বিদ্রোহী কবির অগ্নিঝরা ছন্দ মিলেমিশে একাকার হয়।
Advertisement
অনুষ্ঠানের বিশেষ পরিবেশনায় সবাইকে মুগ্ধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার আবৃত্তি শিল্পী এনামুল হক। তার কণ্ঠের আবৃত্তি যেন কবিতাকে নতুন করে জীবন্ত করে তোলে। পাশাপাশি কৃষি অনুষদের শিক্ষক লাবনী ইয়াসমিনের কণ্ঠে নজরুলসংগীত ছড়িয়ে দেয় আবেগঘন মূর্ছনা।
উৎসবের শেষ পর্বে আনন্দের আলোয় মিশে যায় বিষাদের ছায়া। প্রয়াত সংগীতজ্ঞ, প্রশিক্ষক এনায়েত এ মাওলা জিন্নাহর স্মরণে ভারী হয়ে ওঠে সভাকক্ষের বাতাস। যিনি এ সংস্কৃতির আঙিনারই একজন নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তাঁর স্মরণে চোখ ভিজে ওঠে অনেকেরই।
আরও পড়ুন কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী পালনআয়োজকেরা বলেন, ‘যে প্রজন্ম স্ক্রিনের আলোয় বড় হচ্ছে, তাদের কাছে রবীন্দ্র-নজরুলের আলো পৌঁছে দেওয়াই এ উৎসবের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য।’ ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক তানিয়া আহমেদ তন্বি বলেন, ‘আমাদের জীবনে এমন কিছু মানুষ ছিলেন, যারা আমাদের অনুপ্রাণিত করতেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিল্পচর্চা বিকাশে ক্লাবটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।’
Advertisement
সহকারী রেজিস্ট্রার এনামুল হক বলেন, ‘সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিকশিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকেরা পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেই লক্ষ্যেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সমাপনী বক্তব্যে ক্লাবের সভাপতি আফরা রুমালি সুপ্তি বলেন, ‘আমাদের ক্লাবটি নতুন। আজকে শুধু জিন্নাহ স্যারের কথাই মনে পড়ছে। স্যারের ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কালচারাল ক্লাব গড়ে উঠুক। আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী আয়োজনও তারই একটি প্রয়াস।’
এসইউ
Advertisement