লাইফস্টাইল

মুখের সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায়

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ গালে বা কপালে ছোট ফোলা অংশ চোখে পড়লে অনেকেই সেটাকে সাধারণ ব্রণ ভেবে এড়িয়ে যান। কেউ আবার নিজে থেকেই খোঁচাখুঁচি শুরু করেন বা ব্রণের ওষুধ লাগিয়ে দেন। কিন্তু সমস্যা হলো, সব ফোলা বা দানা ব্রণ হয় না।

Advertisement

অনেক সময় এটি হতে পারে ত্বকের সিস্ট, যা ব্রণের চেয়ে অনেক আলাদা এবং তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল। ভুল চিকিৎসা করলে এটি বাড়তে পারে বা সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই ব্রণ ও সিস্টের পার্থক্য জানা খুব জরুরি।

ব্রণ ও সিস্ট আসলে কী

ব্রণ সাধারণত ত্বকের উপরের স্তরে হয়। তেলগ্রন্থি বন্ধ হয়ে গেলে বা ধুলো-ময়লা জমে গেলে সেখানে ছোট দানা, লালচে ফোলা বা পুঁজভরা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এটি সাধারণত সাময়িক এবং কয়েক দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে সেরে যায়।

অন্যদিকে সিস্ট ত্বকের ভেতরের স্তরে তৈরি হয়। এটি দেখতে অনেক সময় ব্রণের মতো মনে হলেও ভেতরে এটি একটি থলির মতো গঠন তৈরি করে, যেখানে তরল, চর্বি বা মৃত কোষ জমে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় এপিডারময়েড সিস্ট বা সেবাসিয়াস সিস্ট। এটি ধীরে ধীরে বড় হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে একই অবস্থায় থাকতে পারে।

Advertisement

ব্রণ ও সিস্টের প্রধান পার্থক্য

ব্রণ ও সিস্টের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো অবস্থান ও প্রকৃতি। ব্রণ থাকে ত্বকের উপরিভাগে, তাই সহজে দেখা যায় এবং দ্রুত পরিবর্তন হয়। কিন্তু সিস্ট থাকে ত্বকের ভেতরে, তাই এটি তুলনামূলকভাবে গভীর এবং শক্ত মাংসপিণ্ডের মতো অনুভূত হয়।

ব্রণ সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে শুকিয়ে যায়। কিন্তু সিস্ট অনেক সময় মাসের পর মাস একই অবস্থায় থাকতে পারে। ধীরে ধীরে এটি বড়ও হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, ব্রণের মধ্যে সাধারণত পুঁজ বা রক্ত থাকে এবং এটি ফেটে গেলে সহজে সেরে যায়। কিন্তু সিস্টের ভেতরে ঘন তরল বা চর্বিযুক্ত পদার্থ জমে থাকে, যা ফেটে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করে।

কেন সিস্ট নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

সিস্টকে অনেকেই ব্রণ ভেবে চেপে ধরেন বা ফাটানোর চেষ্টা করেন। এটি সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ সিস্ট ত্বকের গভীরে থাকায় এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে জায়গাটি ফুলে যেতে পারে, ব্যথা বাড়তে পারে এবং পরে দাগও থেকে যেতে পারে।

Advertisement

অনেক সময় ছোট সিস্ট সময়ের সঙ্গে বড় হয়ে যায় এবং তখন চিকিৎসা ছাড়া ঠিক করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুরুতেই সঠিকভাবে চিহ্নিত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

  সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায়

সব সিস্টেই ওষুধ বা বড় চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না, বিশেষ করে ছোট আকারের ক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া যত্ন উপকারী হতে পারে।

১. সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গরম পানির সেঁক দেওয়া। একটি পরিষ্কার কাপড় গরম পানিতে ভিজিয়ে হালকা চিপে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে রাখলে আরাম পাওয়া যায়। দিনে কয়েকবার এটি করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ফোলা কিছুটা কমতে পারে।

২. টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান হিসেবে কাজ করে। তবে এটি সরাসরি ব্যবহার না করে ১-২ ফোঁটা টি ট্রি অয়েলের সঙ্গে নারিকেল তেল বা ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

৩. অ্যাপল সাইডার ভিনিগারও অনেক সময় ব্যবহার করা হয়। এতে থাকা অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি সবসময় পানি মিশিয়ে ব্যবহার করতে হয়, না হলে ত্বকে জ্বালা হতে পারে।

অ্যালোভেরা ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। এতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ত্বকের জ্বালা কমাতে এবং ফোলা কমাতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন দাদি-নানির পুরোনো ন্যাচারাল ডিওডোরেন্টে মুগ্ধ নতুন প্রজন্ম যখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

যদি সিস্ট দ্রুত বড় হতে থাকে, ব্যথা শুরু হয় বা জায়গাটি লাল হয়ে যায়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় ছোট সার্জারির মাধ্যমে এটি সহজেই অপসারণ করা হয়।

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক ,হেলথ লাইন ও অন্যান্য

আরও পড়ুন কোরিয়ান গ্লাস স্কিন চাইলে কাঁচা আম ব্যবহার করুন

এসএকেওয়াই