দেশজুড়ে

পৌরসভায় নেই ডাম্পিং স্টেশন, সড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে ময়লা

মাদারীপুর সদরের পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর এলাকায় অবাধে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ছড়াচ্ছে রোগজীবাণু ও দুর্গন্ধ। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর হলেই মাদারীপুর শহরের বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা বেশ কয়েকটি ভ্যানগাড়িতে করে নেওয়া হচ্ছে। ময়লাগুলো মাদারীপুর-শরিয়তপুর সড়কের পাশে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর এলাকায় ফেলা হচ্ছে।

এর পাশেই রয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতি মাদারীপুরে বিসিক শিল্প নগরী। ময়লা ফেলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটিসহ পুরো এলাকায় সবসময় দুর্গন্ধ থাকে।

এছাড়াও এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ঢাকা, চট্টগ্রাম, শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় চলাচল করে। এসময় যাত্রী ও পথচারীদের নাক-মুখ চেপে ধরে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়াও দুর্গন্ধে স্থানীয়দের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

Advertisement

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদারীপুর পৌরসভা ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯১ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে। এরপরও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৪টি মৌজায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। পৌরসভার ময়লা অপসারণের জন্য ১১১ পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ৩০ ভ্যান ও ট্রাকচালক নিয়োজিত আছে।

দেড়শো বছরের পুরোনো এই পৌরসভায় আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সাধারণ মানুষদের পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে ময়লা ফেলা হলেও তা অপসারণে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এছাড়াও ঝড়-বৃষ্টি হলেই ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় চলে আসে। বর্জ্যে পচা পানি রাস্তায় আসলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এছাড়াও ময়লা ফেলতে ফেলতে রাস্তার প্রায় অর্ধেক পূরণ হয়ে যায়। পরে ভেক্যু দিয়ে সেই ময়লা মূল রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেললেও তা আবার রাস্তায় চলে আসে। এতে করে ওই স্থানে প্রায় দুর্ঘটনা লেগেই থাকে।

পথচারী নোমান হাসান বলেন, ‘আড়িয়াল খাঁ সেতুর পাশেই আমার বাড়ি। তাই নানা কাজে প্রতিদিন মাদারীপুর শহরে এই পথ দিয়েই যেতে হয়। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে রাস্তায় হাঁটাচলা করায় কঠিন। নাক চেপে চলতে হয়। অনেক সময় বমিও এসে যায়। তাই দ্রুত এই সড়কের পাশ থেকে ময়লা অসারণের দাবি জানাই।’

ইজিবাইকের চালক নাইম হোসেন বলেন, ‘রাস্তার পাশে এভাবে ময়লা ফেলা ঠিক না। এতে করে সাধারণ মানুষের সমস্যায় পড়তে হয়। তাছাড়া পরিবেশও দূষিত হয়। এই সড়ক দিয়ে গেলে দুর্গন্ধে বমি আসে।’

Advertisement

মাদারীপুর পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অভ নেচারের প্রতিষ্ঠাতা রাজন মাহমুদ বলেন, ‘খোলা জায়গায় কোনোভাবেই ময়লা ফেলা ঠিক না। এতে যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে, তেমনি পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই মানুষ ও পরিবেশের কথা চিন্তা করে পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন তৈরি করা। ডাম্পিং স্টেশন তৈরির দাবি মাদারীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের। তবুও দিনের পর দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত একটি ডাম্পিং স্টেশন উপহার দিতে পারেনি পৌরসভা, এটা খুবই দুঃখজনক।’

মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) জেসমিন আক্তার বানু বলেন, এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমাতে আধুনিক সিস্টেমে ময়লা ফেলার জন্য নেওয়া প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এখন টাকা আসলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। আশা করছি আগামী অর্থবছরেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। আর এতে করে পৌরবাসীর ভোগান্তি কমবে।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এএইচ/জেআইএম