লাইফস্টাইল

ব্রণের দাগ দূর করতে ভরসা রাখুন প্রাকৃতিক উপাদানে

ব্রণ একটি খুবই সাধারণ ত্বকের সমস্যা। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক প্রায় সববয়সের মানুষেরই ব্রণ হতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, দূষণ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ভুল প্রসাধনী ব্যবহার কিংবা ত্বকের অতিরিক্ত তেলের কারণেই সাধারণত ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। তবে ব্রণ সেরে গেলেও অনেক সময় ত্বকে থেকে যায় কালচে দাগ, যা সহজে দূর হতে চায় না।

Advertisement

অনেকে এই দাগ দূর করতে দামি প্রসাধনী বা বিভিন্ন কসমেটিক ট্রিটমেন্টের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু কিছু প্রাকৃতিক উপাদানও নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ব্রণের দাগ হালকা করতে সাহায্য করতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, যেকোনো উপাদান ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা জরুরি। যদি ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জি দেখা দেয়, তাহলে ব্যবহার বন্ধ করে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

টি ট্রি অয়েল

ব্রণের যত্নে সবচেয়ে পরিচিত প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর একটি হলো টি ট্রি অয়েল। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহনাশক উপাদান, যা ব্রণ তৈরিতে ভূমিকা রাখা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে এটি লালচে ভাব ও ফোলাও কমাতে সহায়ক।

টি ট্রি অয়েল কখনোই সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতিদিনের ফেসওয়াশ বা ক্লিনজারের সঙ্গে ১ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে মুখ ধুতে পারেন। চাইলে ক্যারিয়ার অয়েল, যেমন নারিকেল বা জোজোবা তেলের সঙ্গে মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়। নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণের দাগ ধীরে ধীরে হালকা হতে পারে।

Advertisement

আপেল সিডার ভিনেগার

আপেল সিডার ভিনেগারে প্রাকৃতিক অ্যাসিড এবং কিছু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে এবং মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করতে পারে। ফলে ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ দেখায়।

এটি ব্যবহারের জন্য ১ ভাগ আপেল সিডার ভিনেগারের সঙ্গে ২ ভাগ ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি মিশিয়ে নিন। এরপর তুলার সাহায্যে মুখে আলতো করে লাগান। ৫ থেকে ১০ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তারা আরও বেশি পানি মিশিয়ে ব্যবহার করবেন।

গ্রিন টি

গ্রিন টি শুধু পানীয় হিসেবেই নয়, ত্বকের যত্নেও বেশ উপকারী। এতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বকের প্রদাহ কমাতে এবং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে ব্রণের প্রবণতা কমতে পারে এবং ত্বকও সতেজ থাকে।

১ কাপ গরম পানিতে ২ চা-চামচ গ্রিন টি ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ঠান্ডা হলে তুলো দিয়ে ব্রণের জায়গায় লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। চাইলে ব্যবহৃত টি-ব্যাগ ফ্রিজে ঠান্ডা করে কয়েক মিনিট ব্রণের ওপর রাখতে পারেন। এতে ত্বকে আরাম মিলবে এবং লালচে ভাব কিছুটা কমতে পারে।

Advertisement

অ্যালোভেরা জেল

অ্যালোভেরা ত্বককে ঠান্ডা রাখতে এবং জ্বালাপোড়া কমাতে পরিচিত। এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাজা অ্যালোভেরা জেল বা বিশুদ্ধ অ্যালোভেরা জেল দিনে ১ থেকে ২ বার ব্রণের দাগের ওপর লাগাতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক ধীরে ধীরে কোমল ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।

আরও পড়ুন হায়ালুরোনিক অ্যাসিড নাকি গ্লিসারিন কোনটি ত্বকের জন্য ভালো ব্যবহারের সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

প্রাকৃতিক উপাদান হলেও সবার ত্বক এক রকম নয়। তাই প্রথমবার ব্যবহার করার আগে হাতে বা কানের পেছনে অল্প করে লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। কোনো সমস্যা না হলে তবেই মুখে ব্যবহার করুন।

ব্রণের দাগ কমাতে ধৈর্য ধরাও জরুরি। এক-দুই দিন ব্যবহারেই ফল পাওয়া যায় না। পাশাপাশি প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং মুখ পরিষ্কার রাখার অভ্যাসও ত্বক ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন মুখের সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায়

ব্রণের দাগ দূর করতে প্রাকৃতিক উপাদান সহায়ক হতে পারে, তবে যদি ব্রণ খুব বেশি হয়, দাগ গভীর হয় বা বারবার ব্রণ ফিরে আসে, তাহলে অবশ্যই একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক যত্ন এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সূত্র: ফেমিনা, বি বিউটিফুল, টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএকেওয়াই