মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে নয়, বরং রোগী হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
Advertisement
তিনি বলেছেন, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃএকীকরণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য।
শুক্রবার (২৬ জুন) ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তি একটি রোগ। যারা মাদকাসক্তির ফাঁদে পড়েছেন, তারা অপরাধী নন, তারা রোগী। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব নিয়ে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
Advertisement
তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও মনোসামাজিক কাউন্সেলিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার। বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর মান উন্নয়নে অনুদান প্রদান এবং আসক্তি নিরাময় সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না; এটি পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দেয় মাদকের বিস্তার।
তিনি আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদকের বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাদকের চাহিদা কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
Advertisement
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
টিটি/এমকেআর