দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম ওঠা-নামার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা বা সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের স্বাধীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষকে। এর ফলে এখন থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়া বা কমার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারবে।
Advertisement
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১০১৮তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিএসই এবং সিএসই এখন থেকে তাদের নিজস্ব প্রবিধানমালা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে সার্কিট ব্রেকারসহ বাজার নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য মাপকাঠি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে পারবে।
আরও পড়ুন সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় পরিবর্তন আসছে নাস্টক এক্সচেঞ্জের সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালা, নীতিমালা এবং প্রতিদিনের বাজার কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এই নির্দেশনা জারি করেছে কমিশন। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ২০২১ সালের ১৭ জুন বিএসইসির ইস্যু করা সার্কিট ব্রেকার সংক্রান্ত আগের আদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হলো।
Advertisement
বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জাগো নিউজকে বলেন, এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জ সার্কিট ব্রেকারসহ বাজার নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য মাপকাঠি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে পারবে। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কোনো অনুমোদন নিতে হবে না। তবে স্টক এক্সচেঞ্জ যে সিদ্ধান্ত নেবে তা কমিশনকে অবহিত করতে হবে।
আরও পড়ুন প্রথমবার ঢাকায় হবে ‘ডিসকাউন্ট ফেস্ট’, মিলবে ৭৫% পর্যন্ত ছাড়তিনি বলেন, বর্তমানে সার্কিট ব্রেকারের একটি নিয়ম নির্ধারণ করা আছে। স্টক এক্সচেঞ্জ চাইলে সেটি বহাল রাখতে পারে, অথবা পরিবর্তনও করতে পারে। এটি সম্পূর্ণ তাদের ওপর নির্ভর করবে। এক্ষেত্রে স্টক এক্সেচেঞ্জ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।
বর্তমানে কার্যকর থাকা সার্কিট ব্রেকারের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম ২০০ টাকার নিচে তার দাম একদিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারে। এছাড়া ২০১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ৫০১ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, এক হাজার ১ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২ হাজার ১ টাকা থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ এবং ৫ হাজার ১ টাকার বেশি হলে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে বা কমতে পারে।
এমএএস/কেএসআর
Advertisement