বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন অনিয়ম, রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক জালিয়াতি এবং এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
Advertisement
এরই অংশ হিসেবে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি।
দুদকের তলবি চিঠিতে বলা হয়, সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান ও অন্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম, ঋণ খেলাপিদের ছাড় দিয়ে নীতিমালা জারি, রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক জালিয়াতি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতির সুযোগ দিয়ে বিগত ১৫ বছরে ব্যাংক খাতকে ধ্বংস করার অভিযোগ রয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদক উপপরিচালক মোমিনুল ইসলামকে প্রধান এবং উপপরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার ও উপসহকারী পরিচালক ইয়াছিন মোল্লাকে সদস্য করে তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
Advertisement
অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ছয় ধরনের তথ্য ও রেকর্ডপত্র চেয়েছে দুদক। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ এবং ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন ও ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট থেকে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট ও বড় ঋণ পুনঃতফসিল/পুনর্গঠন সংক্রান্ত জারি করা সব অনাপত্তিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি।
এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নাম, ঠিকানা, দায়িত্বকালসহ বিস্তারিত তথ্য, ২০২০ সালের বিআরপিডি সার্কুলার-৮ অনুযায়ী শিল্প ও সেবা খাতে দেওয়া প্রণোদনা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও প্রণোদনার পরিমাণও চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপকে কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা প্রদানের অনুমোদনপত্র ও এ সংক্রান্ত নোটশিটের সত্যায়িত অনুলিপি, সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময়ে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন সংক্রান্ত নথি এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি সংক্রান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদনের কপিও চেয়েছে দুদক।
সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন। সে কারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দ্রুত কমিশনে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে।
Advertisement
এসএম/এমকেআর