দেশজুড়ে

‘বিরক্ত হয়ে নিখোঁজ’ মাদরাসাছাত্রী, পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার

মহিলা মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১২ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি)। নিখোঁজের দুইদিনের মাথায় তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Advertisement

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে মাগুরা পুলিশ লাইন্স এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদরাসার প্রিন্সিপাল, শিক্ষার্থীর বড় বোন এবং সদর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভুক্তভোগী মাগুরা সদর উপজেলার শলুয়া গ্রামের মারকাযুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মহিলা মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্রী।

পুলিশ ও মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে নিখোঁজ হয় ওই ছাত্রী। বিষয়টি জানতে পেরে মাদরাসার প্রিন্সিপাল ফসিউর রহমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং ঘটনাটি জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়।

Advertisement

পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানের মাধ্যমে মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হেফজ বিভাগে পড়াশোনা নিয়ে তার অনাগ্রহ ছিল। বিষয়টি সে পরিবারকে একাধিকবার জানালেও পরিবার তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করে। এছাড়া মাদরাসার নিয়ম-কানুন এবং পারিবারিক চাপের কারণে মানসিকভাবে বিরক্ত হয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে সে মাদরাসা ত্যাগ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর পুলিশ লাইন্স এলাকায় সেলিনা বেগম নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে সে নিজেকে এতিম পরিচয় দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করলে মানবিক কারণে ওই নারী তাকে নিজের বাসায় স্থান দেন। পরে এলাকায় নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সেলিনা বেগমের স্বামী মো. মফিজুর রহমান বিষয়টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে এবং যাচাই-বাছাই শেষে তার বড় বোনের জিম্মায় হস্তান্তর করে।

Advertisement

এদিকে সফল উদ্ধার অভিযানের পর মাগুরা জেলা পুলিশ শিশু ও নারী সংক্রান্ত যে কোনো ঘটনা সম্পর্কে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য জেলার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) খায়রুল হাসান বলন, সময়মতো তথ্য প্রদান করলে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিরাপদ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/ইএ