মুহাম্মদ সাকিব। ব্রাজিল ফুটবল দলের একজন ভাইরাল সমর্থক। তাকে মোটামুটি দলের সব প্লেয়াররাই চেনেন। ব্রাজিলের গণমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ তাদের পত্রিকায় সাকিবের ছবিসহ পর্তুগিজ ভাষায় একটি ফিচার প্রকাশ করেছে। সেখানে সাকিবের ৩টা ইচ্ছার কথাও জানিয়েছে তারা।
Advertisement
‘ও গ্লোবো’ শিরোনাম করেছে— বাংলাদেশের একজন ভক্ত ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রতি দেশটির আবেগ নিয়ে বলেছেন: ‘এই ভালোবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসছে।’ কী লিখেছে পত্রিকাটি—
ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়া থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার দূরত্ব প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার। এত দূরত্ব থাকলেও ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রতি বাংলাদেশিদের আবেগ কোনো অংশে কম নয়। বিশ্বকাপ এলেই এই দেশটা যেন উৎসবের রঙে সেজে ওঠে— রাস্তায় রাস্তায় সবুজ-হলুদ রঙের ছড়াছড়ি, আর উদযাপন চলে ভোরের আলো ফোটা পর্যন্ত। সম্প্রতি এই উদযাপনের একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সারা বিশ্বে।
এই অসাধারণ ভালোবাসার রহস্য জানতে ব্রাজিলের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম গ্লোবো কথা বলেছে বাংলাদেশি তরুণ মুহাম্মদ সাকিবের সঙ্গে, যিনি বিশ্বকাপে কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থকদের একজন।
Advertisement
সাকিব জানান, ২০১০ সালে মাত্র দশ বছর বয়সে পরিবারের মাধ্যমে তিনি ব্রাজিলের সমর্থক হয়ে ওঠেন। তার বাবা-মা ছিলেন কাকার কঠিন অনুরাগী। উত্তরাধিকারসূত্রে এই মেডিকেল শিক্ষার্থীর মনে গেঁথে গেছে ব্রাজিল প্রেম।
সাকিবের ভাষায়, ‘বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ব্রাজিল জাতীয় দলের সম্পর্ক অনন্য। এটা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে বয়ে চলা ভালোবাসা। বিশ্বকাপ এলে মনে হয় পুরো দেশটাই সবুজ-হলুদে ছেয়ে যায়। ব্রাজিল গোল দিলেই রাস্তায় নেমে আসে মানুষ। এটা শুধু খেলা নয়— এটা যেন এক আত্মীয়তার বন্ধন।’
সাকিব এই সমর্থণকে বলেন ‘আবেগের সংযোগ।’ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচগুলো বাংলাদেশে গভীর রাতে দেখা যায়, তবু ভক্তরা রাস্তায় নেমে আসেন। ‘ম্যাচ যত রাতেই হোক, আমরা সবাই জেগে দেখি। ব্রাজিলের প্রতি আমাদের ভালোবাসা এতটাই গভীর যে, সময় কোনো বাধা নয়। এই মুহূর্তগুলো আমাদের কাছে অমূল্য।’
জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের পরও ব্যতিক্রম হয়নি। হাজারো বাংলাদেশি রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছে ব্রাজিলের শেষ ষোলোতে উঠে আসার আনন্দ। সাকিব ও তার বন্ধুরা মিলে বের হন ‘বিজয় মিছিলে’— বাড়ি ফেরেন রাত দুইটার পর।
Advertisement
জাপানের বিপক্ষে কামব্যাক জয়ের পর স্ট্রাইকার মাথেউস কুনহা তার বাংলাদেশের ভক্তদের উদ্দেশে বার্তা পাঠান। তিনি জানান, খেলোয়াড়রা এই ভিডিওগুলো দেখেছেন এবং বাংলাদেশিদের সমর্থকদের প্রতি তারা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশ কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়— ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। তর্ক, খোঁচাখুঁচি, ব্যালকনিতে পতাকা ওড়ানো— সব কিছুই চলে, তবে বন্ধুত্বের সীমার মধ্যে। শাকিব অবশ্য বলেন, ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা একটু ‘অহংকারী’ হয়ে উঠেছেন!
তবে এতে মোটেও বিচলিত নন সাকিব। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, ব্রাজিলই বিশ্বকাপ জিতবে। ভিনিসিউস জুনিয়র, এন্দ্রিক, কাসেমিরো এবং কোচ কার্লো আনচেলোত্তিকে নিয়ে এই দল অবিশ্বাস্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।’
তবে শিরোপার জন্য যা দরকার বলে মনে করেন তিনি, তা হলো নেইমারকে একাদশে ফেরানো। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রিয় ফুটবলার এবং সাকিবের সবচেয়ে বড় আইডল এই ১০ জার্সিধারী প্লেয়ার। ‘তার অসাধারণ খেলা দেখে বড় হয়েছি। বল পায়ে ওর দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করে। তাই নেইমারের প্রতি আমার ভালোবাসা শুধু খেলোয়াড় বলে নয়, তিনি আমার ভেতরে একরকম আবেগও জাগিয়ে তোলেন।’
সাকিবের তিন স্বপ্ন
১. নেইমারের সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করা২. ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জিততে দেখা৩. স্টেডিয়ামে বসে ব্রাজিলের খেলা দেখা
বাংলাদেশিদের এই ভাইরাল সমর্থন দেখে ব্রাজিলিয়ানরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি তুলেছেন— ব্রাজিল যেন এই অকুণ্ঠ ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে অন্তত একটি প্রীতি ম্যাচ বাংলাদেশে খেলে।
আরএমডি