আন্তর্জাতিক

জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে ফের সরাসরি বৈঠক, পরমাণু ছাড়া আলোচ্য বিষয় কী?

ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। পারমাণবিক ইস্যু বাদ দিয়ে কাতারের রাজধানী দোহায় এ আলোচন হবে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সরকারের একাধিক সূত্র।

Advertisement

সূত্রগুলো জানায়, সম্ভাব্য বৈঠকে প্রধান আলোচ্যসূচি হবে লেবাননের চলমান পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্ভূত বিষয়গুলো।

মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আলোচনা পুনরায় শুরু করে বাকি বিষয়গুলোর সমাধানে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ওয়াশিংটন আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত এবং তেহরানও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, ইরানের নিহত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর তেহরান আলোচনা পুনরায় শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, উভয় পক্ষ আগামী সময়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে এবং খামেনির দাফনের পর যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে।

পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় নয়

সূত্রগুলোর দাবি, বৃহস্পতিবার দোহায় পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। গত মাসে সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্ন সম্মেলনে হওয়া আলোচনার ধারাবাহিকতায় ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন নিয়ে এসব বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

ইরানি প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত-সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তেহরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেবে না।

Advertisement

এছাড়া, লেবানন-সংক্রান্ত বিষয় এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদের প্রশ্ন পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা করবে না বলেও জানিয়েছে তেহরান।

সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, যেসব বিষয়ে এর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে সেগুলোর বাস্তবায়ন এবং বাকি বিষয়গুলোর আলোচনা একসঙ্গেই এগিয়ে নেওয়া উচিত। তবে এ বিষয়ে ইরান ভিন্নমত পোষণ করছে। জব্দ থাকা সম্পদের বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তাদের দাবি, কাতারে আটকে থাকা ইরানের ৬ বিলিয়ন ডলার দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে এতে সম্মত হলেও ইসলামাবাদ সমঝোতা বাস্তবায়নের অগ্রগতির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে এ বিষয়েও পরবর্তী দফার বৈঠকে আলোচনা অব্যাহত রাখতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্র: ডন/আনাদোলু এজেন্সি/ইরনা

কেএম