গাইবান্ধায় একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসির বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রে নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র অদলবদল হয়ে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গাইবান্ধা ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রটির দুটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্র নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিষয়টি জানালেও তাদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয়। পরীক্ষা শেষে অন্য কক্ষের পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পর প্রশ্নপত্র অদলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে কলেজ প্রাঙ্গণে ভিড় করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।
কেন্দ্রের ১০৭ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া একাধিক নিয়মিত শিক্ষার্থী জানান, তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ জন পরীক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। তারা ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী, সরবরাহকৃত প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন।
Advertisement
এছাড়া কেন্দ্রের ১০৯ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া একাধিক অনিয়মিত পরীক্ষার্থী জানান, তাদের ২০২৬ সালের বৃহত্তর সিলেবাস অনুযায়ী তৈরিকৃত প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। এতে তাদের পরীক্ষা খুবই খারাপ হয়েছে।
এ কক্ষে ঠিক কতজন পরীক্ষার্থীর এ ধরনের সমস্যা হয়েছে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি। কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া সব পরীক্ষার্থীই সাঘাটা উপজেলার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও ফুলছড়ি উপজেলার বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের।
নিয়মিত পরীক্ষার্থী মারুফা আক্তার বলেন, আমাদের ১০৭ নম্বর কক্ষে ৯০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছি। পরীক্ষার সময় আমরা শিক্ষকদের বিষয়টি জানালেও তারা বলেন, ‘সমস্যা নেই, পরীক্ষা দিতে থাকো। পরে অন্যদের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি আমাদের প্রশ্নপত্র ভিন্ন ছিল। এতে আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েছি। প্রায় একই ধরনের অভিযোগ করেন ওই কক্ষে পরীক্ষার্থী শিমু আক্তার ও হিরা আক্তার সহ অনেকে।
অনিয়মিত পরীক্ষার্থী আব্দুল আহাদ ও আদহাম বুলখী বলেন, আমাদের ১০৯ নম্বর কক্ষে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এতে অনেক অনিয়মিত পরীক্ষার্থী তাদের নির্ধারিত সিলেবাসের বাইরে প্রশ্নের উত্তর লিখেছেন। আমাদের ফলাফল এখন ঝুঁকিতে পড়ে গেছে।
Advertisement
একাধিক অভিভাবক বলেন, এ ধরনের অবহেলার কারণে আমাদের সন্তানদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চাই।
ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলাম বলেন, যে প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নেওয়া হয়ে থাকুক, সেই প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। আমি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না। ঠিক কতজন পরীক্ষার্থীর এ ধরনের সমস্যা হয়েছে, আমি এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়টি জানার পরপরই কেন্দ্র সচিবকে পদক্ষেপ নিতে বলেছি। কোনো পরীক্ষার্থীর যেন ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ মশিউর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের দায় সম্পূর্ণ কেন্দ্র সচিবের। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পৃথক কক্ষে বসানোর কথা। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতে হয়। এক্ষেত্রে সেই নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ, এ বছর ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মোট ২৯৬ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।
আনোয়ার আল শামীম/কেএইচকে/জেআইএম