ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে পর্দার বিকল্প খুব কমই আছে। সুন্দর পর্দা যেমন ঘরের সাজে আনে আভিজাত্যের ছোঁয়া, তেমনি জানালা বা দরজা দিয়ে আসা ধুলাবালিও অনেকটা আটকে রাখে। তবে নিয়মিত ব্যবহারের কারণে পর্দায় ধুলা জমে, রং মলিন হয়ে যায় এবং কখনো কখনো দাগও পড়ে। তখন পর্দা খুলে ধোয়া, শুকানো এবং আবার ঝুলিয়ে দেওয়ার ঝামেলা অনেকের কাছেই বেশ কষ্টসাধ্য মনে হয়।
Advertisement
বিশেষ করে ভারী ব্ল্যাকআউট, ভেলভেট বা লেয়ারড পর্দা খুলে পরিষ্কার করা সময়সাপেক্ষ কাজ। তাই ব্যস্ত জীবনে অনেকেই মাসের পর মাস পর্দা পরিষ্কার করার কাজ পিছিয়ে দেন। কিন্তু এতে শুধু ঘরের সৌন্দর্যই নষ্ট হয় না, ধুলা জমে অ্যালার্জি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও বাড়তে পারে।
তবে সব সময় পর্দা খুলে ধোয়ার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি সহজ কৌশল জানলে পর্দা ঝুলানো অবস্থাতেই সহজে পরিষ্কার রাখা সম্ভব।
ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ধুলা পরিষ্কার করুনযদি পর্দায় শুধু ধুলো জমে থাকে এবং কোনো তেলের দাগ বা কাদা না লাগে, তাহলে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারই সবচেয়ে সহজ সমাধান। ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সঙ্গে আপহোলস্ট্রি ব্রাশ লাগিয়ে পর্দার ওপরের অংশ থেকে ধীরে ধীরে নিচের দিকে পরিষ্কার করুন। এতে কাপড়ের ভাঁজে জমে থাকা সূক্ষ্ম ধুলা, ঝুল এবং অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী কণাও সহজেই দূর হয়ে যাবে।
Advertisement
ভ্যাকুয়াম ক্লিনার না থাকলে একটি নরম ঝাড়ু, ফেদার ডাস্টার বা বড় নরম ব্রাশ দিয়েও ওপর থেকে নিচের দিকে আলতোভাবে ধুলা ঝেড়ে নিতে পারেন। এতে পর্দা অনেকটাই পরিষ্কার থাকবে।
স্প্রে দিয়ে সহজেই দাগ তুলে ফেলুনদীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে পর্দায় কালচে ছোপ বা ছোটখাটো দাগ দেখা দিতে পারে। এমন ক্ষেত্রে পুরো পর্দা না ধুয়েও শুধু দাগের অংশ পরিষ্কার করা সম্ভব। একটি স্প্রে বোতলে হালকা গরম পানি নিন। এর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মাইল্ড লিকুইড ডিটারজেন্ট বা বেবি শ্যাম্পু মিশিয়ে নিন।
এরপর দাগযুক্ত স্থানে হালকা করে স্প্রে করুন। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে একটি পরিষ্কার মাইক্রোফাইবার কাপড় বা নরম স্পঞ্জ দিয়ে আলতোভাবে মুছে ফেলুন। সবশেষে পরিষ্কার ভেজা কাপড় দিয়ে সাবানের অংশ মুছে নিন। এতে দাগও উঠে যাবে, আবার কাপড়ের ক্ষতিও হবে না।
গন্ধ দূর করুন ঘরোয়া উপায়রান্নাঘরের পাশের জানালার পর্দায় অনেক সময় তেল, ধোঁয়া কিংবা গুমোট গন্ধ জমে যায়। আবার দীর্ঘদিন ব্যবহারে অন্য পর্দাতেও এক ধরনের বন্ধ গন্ধ তৈরি হতে পারে। এক্ষেত্রে একটি স্প্রে বোতলে পরিষ্কার পানির সঙ্গে সামান্য ফেব্রিক কন্ডিশনার অথবা কয়েক ফোঁটা ডেটল ও পছন্দের এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। এরপর পুরো পর্দায় হালকা করে স্প্রে করুন। জানালা খুলে রাখলে বাতাসে পর্দা দ্রুত শুকিয়ে যাবে। এতে শুধু হালকা ধুলাই কমবে না, পুরো ঘরও থাকবে সতেজ।
Advertisement
পর্দা পরিষ্কার করার পর ঘরের ফ্যান চালিয়ে দিন এবং জানালা-দরজা খুলে রাখুন, যাতে ভেজাভাব দ্রুত শুকিয়ে যায়। এতে কাপড়ে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না। যদি ঘরে এসি ব্যবহার করেন, তাহলে পরিষ্কারের সময় কিছুক্ষণ এসি বন্ধ রেখে প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের সুযোগ দিন।
আরও পড়ুন মানসিক শান্তি আনতে ঘর সাজাবেন যেভাবে কত দিন পরপর পরিষ্কার করবেন?বিশেষজ্ঞদের মতে, ধুলাবালিপূর্ণ এলাকায় থাকলে মাসে অন্তত ২বার পর্দার ধুলা পরিষ্কার করা উচিত। আর প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস পর পর কাপড়ের ধরন অনুযায়ী পুরো পর্দা ধুয়ে নেওয়া ভালো।
যেসব ঘরে ছোট শিশু, পোষা প্রাণী বা অ্যালার্জির রোগী রয়েছেন, সেখানে আরও নিয়মিত পর্দা পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন হাঁড়ি-পাতিল মাজার স্পঞ্জ কত দিন পর পর পরিবর্তন করতে হবেপর্দা সব সময় খুলে ধোয়ার প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত ধুলো ঝাড়া, প্রয়োজনমতো স্পট ক্লিনিং এবং হালকা ফ্রেশনার স্প্রে ব্যবহার করলেই পর্দা দীর্ঘদিন পরিষ্কার, সতেজ ও সুন্দর থাকবে। মাসে মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিলেই ভারী পর্দা খোলার ঝামেলা ছাড়াই ঘর থাকবে ঝকঝকে, স্বাস্থ্যকর এবং পরিপাটি।
সূত্র: গুড হাউজ কিপিং, দ্য স্প্রুস
এসএকেওয়াই