নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে বাবার বাড়িতে রেখে মসজিদের ইমামের সঙ্গে পালিয়েছেন নিশাত আক্তার নামের এক কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী। পালানোর সময় ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন তিনি।
Advertisement
শুক্রবার (৩ জুলাই) নিশাতের মা নাজমা আক্তার (৬০) জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত ইমাম রিয়াজ হোসেন, মেয়ে নিশাত আক্তার এবং রিয়াজের বাবা খোরশেদ আলম ও মা কুলসুম আক্তারকে আসামি করে চাটখিল থানায় অভিযোগ দেন তিনি।
এর আগে শনিবার (২৭ জুন) হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের সেকান্দর মাস্টার পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ইমাম রিয়াজ হোসেন (২৬) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর করপাড়া ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। নিশাত আক্তার (৩০) চাটখিলের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মো. আবু ইউসুফের মেয়ে। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় রয়েছেন।
Advertisement
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিশাতের স্বামী কানাডা থাকার সুবাদে তিন সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। এ সুযোগে বাড়ির পাশে চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদের ইমাম রিয়াজ হোসেনের সঙ্গে নিশাতের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যান। এসময় নিশাত তার তিন সন্তানকে কৌশলে বাবার বাড়িতে রেখে যান।
নিশাতের মা নাজমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ছয়টি সোনার আংটি, পাঁচটি চেইন, দুটি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত তার ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত দুই লাখ টাকার একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যান।
এদিকে নিশাতের শয়ন কক্ষ তল্লাশি করে রিয়াজ ও নিশাতের বিয়ের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট উদ্ধার করেছেন পরিবারের লোকজন। নোয়াখালীর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ৪ মে আগের কাবিননামা বাতিল করে পুনরায় নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের পরও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এ অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
Advertisement
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘এ ঘটনায় মেয়ের মা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য এরইমধ্যে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে।’
ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/জেআইএম