আন্তর্জাতিক

ডিম বাদ দিয়ে নিরামিষ মেনু চালুর সিদ্ধান্তে বিতর্ক, দায়িত্বে ইসকন

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলের মধ্যাহ্নভোজের মেনু থেকে ডিম বাদ দিয়ে বিকল্প হিসেবে নিরামিষ চালুর সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। রাজ্যের নতুন সরকার পরীক্ষামূলকভাবে কলকাতা পৌরসভার অধীন স্কুলগুলোতে এই ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

Advertisement

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতা পৌরসভার স্কুলগুলোর খাবার প্রস্তুতের দায়িত্ব পাবে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন)-এর অন্নমিত্র ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পরিবেশন করে। ফলে ডিমের পরিবর্তে অন্যান্য নিরামিষ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হবে।

তবে প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। ইসকনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এরই মধ্যে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, শিশুদের পুষ্টির প্রশ্নে ধর্মীয় বা আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি সরকার স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর নিরামিষভোজনের সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে চাইছে।

Advertisement

সমালোচকদের মতে, ডিম শিশুদের জন্য সবচেয়ে সস্তা ও সহজলভ্য উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস। পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যসংস্কৃতিতেও ডিম দীর্ঘদিনের পরিচিত খাবার। তাই এর পরিবর্তে সয়াবিন বা রাজমার মতো বিকল্প খাবার শিক্ষার্থীরা কতটা গ্রহণ করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো ও বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিত করা। তিনি দাবি করেন, কাউকে কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণে বাধ্য করা হবে না।

ইসকনের কর্মকর্তারাও বলছেন, তাদের পরিবেশিত নিরামিষ খাদ্য পুষ্টিগুণের দিক থেকে যথেষ্ট সমৃদ্ধ। তাদের দাবি, সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা নিরামিষ খাদ্যতালিকার মাধ্যমে ডিমের সমপরিমাণ প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন সরবরাহ করা সম্ভব।

ভারতের অন্যতম বৃহৎ মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি ১৯৯৫ সালে সারা দেশে চালু হয়। বর্তমানে ১১ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। কেন্দ্র সরকার ক্যালোরি ও প্রোটিনের মান নির্ধারণ করলেও মেনু ঠিক করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের ওপর। ফলে বিভিন্ন রাজ্যে খাবারের তালিকায় ভিন্নতা দেখা যায়।

Advertisement

পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমে মানবদেহের প্রয়োজনীয় নয়টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের সতর্কবার্তা, ডিম বাদ দিলে সেই পুষ্টির ঘাটতি সমপর্যায়ের বিকল্প দিয়ে পূরণ করতে হবে। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শেখার সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মত, সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে শিক্ষার্থীদের পছন্দের সুযোগ দেওয়া। যারা ডিম খেতে চায় তাদের ডিম এবং যারা খায় না তাদের জন্য কলা বা অন্য কোনো নিরামিষ প্রোটিনসমৃদ্ধ বিকল্প রাখা হলে বিতর্কও কমবে, একই সঙ্গে শিশুদের পুষ্টিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম