প্রায় দেড় দশক আগের একটি মামলাকে ঘিরে আবারও আলোচনায় মালয়ালম সুপারস্টার মোহনলাল। হাতির দাঁত রাখার অভিযোগে হওয়া সেই পুরোনো মামলায় নতুন মোড় এসেছে অভিনেতার সাম্প্রতিক এক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। কেরল বন দফতরে জমা দেওয়া নথিতে তিনি জানিয়েছেন, তার কাছে বর্তমানে ১০টি হাতির দাঁত এবং হাতির দাঁতের (আইভরি) তৈরি ১৩টি মূর্তি রয়েছে।
Advertisement
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কেরল হাইকোর্ট মোহনলালের হাতির দাঁতের মালিকানার সার্টিফিকেট বাতিল করে। এরপর বন দফতরের একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় নিজের কাছে থাকা আইভরি সামগ্রীর হালনাগাদ বিবরণ জমা দেন এই অভিনেতা। সেই নথিই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১১ সালে। ওই বছর কোচির থেভারা এলাকায় মোহনলালের বাসভবনে আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা তল্লাশি চালান। মূল উদ্দেশ্য ছিল আর্থিক নথি ও নগদ অর্থের খোঁজ করা। তবে অভিযানের সময় বাড়ি থেকে হাতির দাঁত এবং হাতির দাঁতের তৈরি বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সেগুলো জব্দ করা হয় এবং ভারতের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়।
ভারতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বৈধ সরকারি অনুমতি ছাড়া হাতির দাঁত বা আইভরি নিজের কাছে রাখা আইনত নিষিদ্ধ।
Advertisement
তদন্তের সময় মোহনলাল দাবি করেছিলেন, উদ্ধার হওয়া দাঁতগুলো তার একটি পোষা হাতির, যেটি স্বাভাবিকভাবে মারা গিয়েছিল। স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে তিনি সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, এ ধরনের সামগ্রী রাখার জন্য সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হয়, সে বিষয়ে তার জানা ছিল না।
এরপর ২০১৬ সালে তার নামে হাতির দাঁতের মালিকানার একটি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। দীর্ঘ সময় মামলাটি তেমন আলোচনায় না থাকলেও ২০২৫ সালে কেরল হাইকোর্ট সেই শংসাপত্র বাতিল করে দেয়। এরপরই বন দফতরের কাছে নতুন করে সম্পদের বিবরণ জমা দেন এই অভিনেতা।
আরও পড়ুন আমিরকে বিয়ে করতেই আলোচনায় গৌরী, ভাইরাল পুরোনো ভিডিওবন দফতরে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোহনলালের কাছে রয়েছে ১০টি হাতির দাঁত, যা আগের ঘোষণার তুলনায় ছয়টি বেশি। এছাড়া রয়েছে হাতির দাঁতের তৈরি ১৩টি মূর্তি। এসব মূর্তির মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাম এবং তিরুপতি বালাজির মূর্তিও রয়েছে। সব মিলিয়ে মূর্তিগুলোর ওজন প্রায় ৪৬ কেজি।
অভিনেতার দাবি, তার কাছে থাকা অধিকাংশ হাতির দাঁত উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অথবা উপহার হিসেবে পাওয়া। তবে এসব দাবির সত্যতা যাচাইয়ে বন দফতর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাবে। প্রয়োজন হলে ডিএনএ বিশ্লেষণও করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Advertisement
তবে নতুন এই ঘোষণার অর্থ এই নয় যে, মোহনলালের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। বন দফতর জানিয়েছে, প্রথমে ঘোষিত সামগ্রীর উৎস, বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন দাপট দেখাচ্ছে অক্ষয়ের ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’, ৯ দিনে কত আয় সিনেমাটিরফলে পুরোনো মামলায় তাৎক্ষণিক কোনো নতুন অভিযোগ না এলেও, বন দফতরের চলমান যাচাই-বাছাইয়ের কারণে আবারও আইনি ও জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মালয়ালম সিনেমার এই জনপ্রিয় অভিনেতা।
এমএমএফ