সকালের নাস্তায় অনেকে পাউরুটির সঙ্গে মাখন খেয়ে থাকেন। আবার দুপুরে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের ওপর এক চামচ ঘি খেতে পছন্দ করেন। তবে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে, মাখন নাকি ঘি কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর? দুটিই দুধ থেকে তৈরি হলেও পুষ্টিগুণ, রান্নায় ব্যবহার এবং শরীরে প্রভাবের দিক থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
Advertisement
পুষ্টিবিদদের মতে, ঘি এবং মাখন দুটিতেই ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে রয়েছে। তবে কোনটি খাবেন, তা নির্ভর করে আপনার শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিমাণের ওপর।
ঘি কেন বেশি স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়?ঘি তৈরির সময় মাখনকে গরম করে এর জলীয় অংশ এবং দুধের কঠিন উপাদান আলাদা করা হয়। ফলে ঘিতে ল্যাকটোজ ও কেসিনের পরিমাণ খুবই কম থাকে। এ কারণে যাদের দুধ বা ল্যাকটোজে সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের জন্য ঘি তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য হতে পারে।
এছাড়া ঘিতে বিউটিরেট এবং কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিডের মতো কিছু উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিউটিরেট অন্ত্রের কোষের জন্য উপকারী এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি সিএলএ শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার ক্ষেত্রে ঘি বেশি উপযোগী। কারণ ঘির স্মোক পয়েন্ট মাখনের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ বেশি তাপেও এটি সহজে পুড়ে যায় না বা ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। তাই ভাজা, ফোড়ন দেওয়া বা উচ্চ তাপে রান্নার জন্য ঘি ভালো বিকল্প হতে পারে।
অন্যদিকে মাখনে জলীয় অংশ থাকায় এটি দ্রুত পুড়ে যেতে পারে। তাই মাখন সাধারণত রুটি, টোস্ট, স্যান্ডউইচ বা কম তাপমাত্রার রান্নায় বেশি ব্যবহার করা হয়।
মাখনের সীমাবদ্ধতামাখনে অল্প পরিমাণে ল্যাকটোজ ও কেসিন থাকে। তাই যাদের দুধজাত খাবারে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মাখন খেলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া এতে জলীয় অংশ থাকায় সংরক্ষণকালও তুলনামূলক কম। তাই মাখন সাধারণত ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়।
আরও পড়ুন তেলাপিয়া মাছ খেলে শরীরে যেসব প্রভাব পড়ে সবার জন্য কি ঘি উপকারী?ঘি তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর হলেও এটি সীমাহীন পরিমাণে খাওয়ার সুযোগ নেই। ঘি ও মাখনে সম্পৃক্ত চর্বি বেশি থাকে। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে রক্তে কোলেস্টেরল বাড়তে পারে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।
Advertisement
যাদের স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার বা হৃদ্রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঘি ও মাখন সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে যাদের ওজন কম, শক্তির চাহিদা বেশি বা বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থায় অতিরিক্ত ক্যালরির প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত ঘি উপকারী হতে পারে।
আরও পড়ুন চা-কফি ছাড়াও সারাদিন সতেজ থাকার সহজ উপায় পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে ভালোঘি বা মাখন কোনোটিই এককভাবে সুপারফুড নয়। এগুলো সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে খেলে উপকার পাওয়া যায়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের পাশাপাশি অল্প পরিমাণে ঘি বা মাখন রাখা যেতে পারে। অর্থাৎ যদি রান্নার জন্য একটি বিকল্প বেছে নিতে হয়, তাহলে ঘি কিছুটা এগিয়ে থাকে। তবে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি কোনো একটি খাবার নয়, বরং সম্পূর্ণ খাদ্যাভ্যাস ও পরিমিতি বজায় রাখা।
সূত্র: হেলথলাইন, ইন্ডিয়া টুডে
এসএকেওয়াই