স্বাস্থ্য

বাংলাদেশে তৈরি ক্যানসারের ওষুধ আমদানিতে আগ্রহী বেশ কয়েকটি দেশ

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের উৎপাদিত ওষুধের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশে তৈরি ক্যানসারের ওষুধসহ অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী ওষুধ আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তিউনিশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

Advertisement

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের এক হোটেলে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ওষুধের জয়জয়কার

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এক সম্মেলনে তিউনিশিয়াসহ দু-তিনটি দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক ও সরকারের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘ওষুধ রপ্তানির আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের বেসরকারি প্রস্তুতকারকরা খুব ভালো নাম অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা আমাদের উৎপাদিত ওষুধ, বিশেষ করে ক্যানসারের ওষুধসহ অন্যান্য ওষুধ নিতে চান। এছাড়া আমরা দেশে ভ্যাকসিন তৈরির কারখানা ও উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছি।’

Advertisement

স্বাস্থ্যখাতে রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ

বর্তমান সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতো একজন গুণী উদ্যোক্তার নেতৃত্বে দেশের স্বাস্থ্যখাতের বাজেট ২৩ হাজার কোটি টাকা থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন তরুণদের স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

জনসংখ্যা অনুপাতে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও তারা দেশের বিভিন্ন সংকটে উদ্যোক্তাসুলভ মানসিকতা নিয়ে নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

করোনা ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সাফল্য

করোনাকালীন সাফল্যের কথা স্মরণ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর হার কম ছিল, যা আমাদের চিকিৎসকদেরই বড় সাফল্য। এছাড়া সম্প্রতি হামের তীব্র সমস্যা ও চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিও চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়ে সরকার সফলভাবে মোকাবিলা করছে।’ বিগত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত বলে তিনি দাবি করেন।

অনন্য উদ্ভাবন: পেডোগ্রাফ ও বাবল ডিভাইস

কর্মশালায় দুটি যুগান্তকারী উদ্ভাবনের কথা তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর একটি হলো পেডোগ্রাফ বা পায়ের ক্যানসার প্রতিরোধী বেল্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জাফর সিদ্দিকী এটি উদ্ভাবন করেছেন, যা বর্তমানে পাকিস্তানে প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি হচ্ছে। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের পা কেটে ফেলার ঝুঁকি কমায় এবং পায়ের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এর ওপর ভিত্তি করে জুতা প্রস্তুতকারকরা বিশেষ জুতা তৈরি করছেন।

Advertisement

আরেকটি উদ্ভাবন হলো আইসিডিডিআর,বি-এর বাবল ডিভাইস। সংস্থাটির একজন চিকিৎসক মাত্র ৩৫০ টাকা খরচে একটি পানির পাত্র উদ্ভাবন করেছেন, যা পানিতে বুদবুদ (বাবল) তৈরি করে। হামের সময় এই ছোট যন্ত্রটি দেশের বিপুলসংখ্যক শিশুর জীবন বাঁচিয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

এসইউজে/একিউএফ