অফিসে যাওয়ার প্রিয় সাদা শার্ট হোক কিংবা পছন্দের রঙিন কুর্তি যতই পরিষ্কার থাকুক না কেন, কলারের অংশে যদি কালচে জেদি দাগ জমে থাকে, তাহলে পুরো পোশাকের সৌন্দর্যই ম্লান হয়ে যায়। অনেক সময় নতুন জামাও শুধু কলারের ময়লার কারণে পুরোনো ও অগোছালো দেখায়।
Advertisement
গরমের দিনে ঘাম, শরীরের প্রাকৃতিক তেল, ধুলাবালি ও দূষণের কারণে কলারের অংশে ধীরে ধীরে একটি আঠালো স্তর তৈরি হয়। সাধারণ ডিটারজেন্ট বা সাবান দিয়ে ধুলেও এই দাগ সহজে ওঠে না। অনেকে জোরে ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু এতে কাপড়ের আঁশ নষ্ট হয়ে যায় এবং কলার দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে।
ভালো খবর হলো, এই সমস্যার সমাধানের জন্য দামি ক্লিনার কেনার প্রয়োজন নেই। ঘরেই থাকা কয়েকটি সাধারণ উপাদান ব্যবহার করেই সহজে কলারের জেদি দাগ পরিষ্কার করা সম্ভব।
শ্যাম্পু দিয়ে তুলুন তেলজাতীয় দাগশরীরের তেল ও ঘাম পরিষ্কার করার জন্য যেমন শ্যাম্পু কার্যকর, ঠিক তেমনি কাপড়ের কলারে জমে থাকা তেল-ময়লাও এটি সহজে আলগা করে দিতে পারে।
Advertisement
৫ মিনিট আগে কলারের কালচে অংশে সামান্য শ্যাম্পু লাগিয়ে নিন। এরপর আঙুল দিয়ে বা নরম ব্রাশ দিয়ে হালকাভাবে ঘষে পাঁচ মিনিট রেখে দিন। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অফিস শার্ট বা স্কুল ড্রেসের কলারের নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার করতে এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর।
বেকিং সোডা ও লেবুর রসের পেস্টঅনেক দিনের পুরোনো বা গাঢ় দাগের ক্ষেত্রে বেকিং সোডা দারুণ কাজ করতে পারে। ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে প্রয়োজনমতো লেবুর রস মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এবার একটি পুরোনো নরম টুথব্রাশ দিয়ে সেই পেস্ট কলারের দাগের ওপর লাগিয়ে আলতোভাবে স্ক্রাব করুন। ১০ মিনিট অপেক্ষা করে পরে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
বেকিং সোডা দাগ আলগা করতে সাহায্য করে, আর লেবুর প্রাকৃতিক অ্যাসিড কাপড়ের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে রঙিন কাপড়ে লেবুর রস ব্যবহারের আগে পোশাকের অদৃশ্য কোনো অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো, কারণ কিছু কাপড়ে রং ফিকে হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
সাদা ভিনেগারের ব্যবহারসাদা ভিনেগার দীর্ঘদিন ধরেই ঘর পরিষ্কারের পাশাপাশি কাপড়ের দাগ তুলতেও ব্যবহার হয়ে আসছে। সমপরিমাণ পানি ও সাদা ভিনেগার মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিন। এরপর কলারের দাগের ওপর ভালোভাবে স্প্রে করে ৩০ মিনিট রেখে দিন। যদি দাগ খুব বেশি পুরোনো হয়, তাহলে অল্প পরিমাণ ভিনেগার সরাসরি দাগের ওপর লাগানো যেতে পারে। এরপর হালকা গরম পানি ও ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে শুধু দাগই কমবে না, কাপড়ে জমে থাকা দুর্গন্ধও দূর হতে পারে।
Advertisement
শুধু দাগ তুললেই হবে না, দাগ যাতে কম জমে সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। যারা নিয়মিত অফিসে শার্ট পরেন বা গরমে বেশি ঘামেন, তারা জামা পরার আগে ঘাড়ের অংশে অল্প ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। এটি অতিরিক্ত ঘাম ও তেল শুষে নিতে সাহায্য করে, ফলে কলারে ময়লা কম জমে।
এছাড়া ঘেমে যাওয়া জামা দীর্ঘ সময় ফেলে না রেখে যত দ্রুত সম্ভব ধুয়ে ফেললে দাগ স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।
কিছু বাড়তি পরামর্শ কলারের দাগ দেখলেই দ্রুত পরিষ্কার করুন, অনেক দিন ফেলে রাখবেন না। শক্ত ব্রাশ দিয়ে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না। কাপড়ের যত্নের নির্দেশনা দেখে পরিষ্কার করুন। খুব নাজুক বা দামি কাপড় হলে আগে ছোট অংশে উপাদান পরীক্ষা করে নিন। ব্লিচ ব্যবহার করলে কাপড়ের রং ও গঠন নষ্ট হতে পারে, তাই প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার না করাই ভালো। আরও পড়ুন সরু মুখের কাচের বোতল যেভাবে পরিষ্কার করবেনজামার কলারের কালচে দাগ খুব সাধারণ একটি সমস্যা হলেও সঠিক উপায়ে পরিষ্কার করলে এটি নিয়ে আর চিন্তার কারণ নেই।কিছু সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে খুব অল্প সময়েই কলারকে আবার পরিষ্কার ও ঝকঝকে করে তুলতে পারবেন। পাশাপাশি নিয়মিত যত্ন নিলে প্রিয় শার্ট বা কুর্তিও দীর্ঘদিন নতুনের মতো সুন্দর থাকবে।
সূত্র: গুড হাউজকিপিং, উইকিহাউ
এসএকেওয়াই