বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে লামিনে ইয়ামালকে থামানোর জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বেলজিয়ামের প্রধান কোচ রুডি গার্সিয়া। তার মতে, শুধু একজন খেলোয়াড়কে নয়, বরং পুরো স্পেন দলকেই মোকাবিলা করার পরিকল্পনা করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বাস করেন, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের দুর্দান্ত রক্ষণভাগের রেকর্ড ভাঙার সামর্থ্য তার দলের রয়েছে।
Advertisement
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য কোয়ার্টার ফাইনালে স্পষ্ট আন্ডারডগ হিসেবেই মাঠে নামছে বেলজিয়াম। তবে গার্সিয়া জানিয়ে দিয়েছেন, তার দলের কৌশল কোনোভাবেই শুধু ইয়ামালকে ঘিরে হবে না। যদিও এবারের বিশ্বকাপে তরুণ এই স্প্যানিশ তারকা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তবু গার্সিয়ার মতে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত খেলা।
ইউরো ২০২৪-এর চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তারা কোনো গোলও হজম করেনি। গার্সিয়া স্বীকার করেছেন, এটি বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তবে তার মতে, বেলজিয়ামের মূল লক্ষ্য হবে স্পেনকে তাদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে না দেওয়া এবং বল দখলে পেলে নিজেদের আক্রমণভাগের শক্তি কাজে লাগানো।
গার্সিয়া ব্যাখ্যা করেন, বেলজিয়ামের কৌশল একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে ঘিরে নয়, পুরো স্পেন দলকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে। তার বিশ্বাস, স্পেনকে তাদের শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগাতে না দিতে পারলেই বেলজিয়াম ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে।
Advertisement
আরটিবিএফের বরাত দিয়ে গার্সিয়া বলেন, ‘লামিনে ইয়ামালকে থামানোর জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ তাহলে স্পেনের প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্যই আলাদা পরিকল্পনা করতে হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন স্পেনকে থামানোর পরিকল্পনা। তাদের নিজেদের শক্তি অনুযায়ী খেলতে দেওয়া যাবে না। তারা অবশ্যই বলের দখল বেশি রাখবে, কিন্তু আমাদেরও নিজস্ব শক্তি আছে।’
এছাড়া খেলার কৌশল নিয়ে গার্সিয়া আরও বলেন, ‘বল ফিরে পাওয়ার পর আমরা তাদের সমস্যায় ফেলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এই ম্যাচ জেতার জন্য আমাদের সব ধরনের সামর্থ্য রয়েছে, কারণ প্রায় সবাই ধরে নিয়েছে আমরা ইতোমধ্যেই বিদায় নিয়েছি। আমি আশা করি, আমরা এই কোয়ার্টার ফাইনালে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ব। আমার শরীরে আন্দালুসিয়ার রক্ত থাকলেও হৃদয়টা বেলজিয়ামের।’
গার্সিয়ার মতে, স্পেন বল দখলভিত্তিক ফুটবল খেললেও বেলজিয়ামের আক্রমণভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি মনে করেন, আগের চেয়ে স্পেন এখন আরও সংগঠিত দল হলেও যেকোনো পরিসংখ্যানই একদিন না একদিন ভাঙার জন্যই তৈরি হয়।
Advertisement
গার্সিয়া বলেন, ‘আমাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। স্পেনই ফেবারিট। তারা বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন, আর সেই শিরোপা জয়ের পর থেকে দলটিতে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। তারা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে খেলছে। এই টুর্নামেন্টে তারা এখনো কোনো গোল হজম করেনি। আশা করি, অন্তত আমাদের বিপক্ষে একটি গোল তারা হজম করবে। তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সম্মান রয়েছে। তবে অনেক দূর যেতে হলে বড় দলগুলোকে হারাতেই হবে। এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ধাপের সঙ্গে কঠিনতার মাত্রাও বাড়তে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু চাপ সামলাতে মাঠে নামছি না, নিজেদের অস্তিত্বও দেখাতে চাই। আমরা গোল করতে সক্ষম। এই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সেরা আক্রমণভাগ আমাদের। নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে লড়ব। আমরা প্রমাণ করতে চাই, কোয়ার্টার ফাইনালের চেয়ে আরও দূর যাওয়ার যোগ্যতা আমাদের আছে।’
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার গোল না খাওয়া স্পেনের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। শেষ চারে জায়গা করে নিতে হলে গার্সিয়ার দলকে রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টে যেভাবে কার্যকর আক্রমণ করেছে, সেই ধারাও ধরে রাখতে হবে।
আরএএইচইউএল/এমএমআর