একটি রাষ্ট্রকে উন্নত বলে চিহ্নিত করার প্রচলিত সূচকগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথাপিছু আয়, শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, মানবসম্পদের গুণগত মান এবং উদ্ভাবনী শক্তি। কিন্তু এই সব সূচকের পেছনে যে একটি মৌলিক চালিকাশক্তি কাজ করে, সেটি হলো গবেষণা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিশ্বের কোনো দেশ শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ, সস্তা শ্রম বা বিদেশি বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়নি। স্থায়ী উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে উঠেছে জ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ওপর। তাই প্রশ্নটি আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক—গবেষণায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ছাড়া কি সত্যিই একটি দেশ উন্নত রাষ্ট্র হতে পারে?
Advertisement
বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দারিদ্র্য হ্রাস, কৃষি উৎপাদন, পোশাকশিল্প, নারীর কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবার বিস্তার—এসব ক্ষেত্রে সাফল্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের পর এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনের পথে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—আমরা কি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছি?
একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতিকে অর্থনীতিবিদরা Knowledge Economy বা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বলে অভিহিত করেন। এই অর্থনীতির প্রধান সম্পদ তেল, গ্যাস বা খনিজ নয়; প্রধান সম্পদ হলো মানুষের মেধা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং নতুন প্রযুক্তি। আজ বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকালেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি, ওষুধ, মহাকাশ গবেষণা কিংবা নবায়নযোগ্য জ্বালানি—সব ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব দিচ্ছে সেই দেশগুলো, যারা গবেষণায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ করেছে।
গবেষণা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? কারণ গবেষণাই নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে, আর সেই জ্ঞান থেকেই জন্ম নেয় নতুন প্রযুক্তি, নতুন শিল্প, নতুন কর্মসংস্থান এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। একটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি নতুন ধারণা সৃষ্টি করতে না পারে, তাহলে তাকে অন্য দেশের উদ্ভাবনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে প্রযুক্তি আমদানি করতে হয়, রয়্যালটি দিতে হয় এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হয়।
Advertisement
বিশ্বব্যাংক, ইউনেস্কো এবং OECD-এর বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গবেষণা ও উন্নয়ন (Research and Development—R&D) খাতে বিনিয়োগের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যে দেশগুলো তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) উল্লেখযোগ্য অংশ গবেষণায় ব্যয় করে, সেসব দেশ দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ উৎপাদনশীলতা, উন্নত প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী শিল্পভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। ষাটের দশকে দেশটি ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দরিদ্র। কিন্তু তারা শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং গবেষণাকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। বর্তমানে দেশটি জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় করে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর একটি। ফলাফল আজ দৃশ্যমান—সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল, জাহাজ নির্মাণ এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বনেতাদের কাতারে।
চীনের উত্থানও একই শিক্ষা দেয়। একসময় স্বল্পমূল্যের উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, উচ্চগতির রেল, বৈদ্যুতিক যান এবং মহাকাশ গবেষণায় বিশ্বের অন্যতম শক্তি। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে গবেষণা খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার এবং উদ্ভাবনকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি।
উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার স্বপ্ন কেবল উঁচু সেতু, প্রশস্ত মহাসড়ক কিংবা আধুনিক ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি সত্যিকারের উন্নত রাষ্ট্রের পরিচয় পাওয়া যায় তার গবেষণাগারে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানে এবং নতুন ধারণাকে মূল্য দেওয়ার সংস্কৃতিতে। কারণ অবকাঠামো একটি দেশের বাহ্যিক শক্তি নির্মাণ করে, আর গবেষণা নির্মাণ করে তার বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি।
Advertisement
অন্যদিকে ফিনল্যান্ড, ইসরায়েল এবং সিঙ্গাপুরের মতো সম্পদস্বল্প দেশগুলো প্রমাণ করেছে যে প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব উন্নয়নের বাধা নয়, যদি একটি দেশ মানুষের মেধাকে সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে। ইসরায়েলকে প্রায়ই "স্টার্টআপ নেশন" বলা হয়। এর মূল কারণ শুধু উদ্যোক্তা সংস্কৃতি নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং সরকারের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় ফিরে তাকালে দেখা যায়, গবেষণার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ খাত এখনো প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য বরাদ্দ সীমিত, আধুনিক গবেষণাগারের সংখ্যা কম, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সহযোগিতা পর্যাপ্ত নয় এবং শিল্পখাতের সঙ্গে গবেষণার সংযোগও দুর্বল। ফলে অনেক মেধাবী গবেষক বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার সুযোগ পেলে দেশে ফিরে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে শুধু ব্রেন ড্রেইনই বাড়ে না; দেশের উদ্ভাবনী সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গবেষণাকে অনেক সময় কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা বিজ্ঞানীদের কাজ বলে মনে করা হয়। বাস্তবে এর পরিধি অনেক বিস্তৃত। কৃষিতে নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন, জলবায়ু সহনশীল ফসল, কম খরচে চিকিৎসা প্রযুক্তি, ওষুধ উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নগর পরিকল্পনা, এমনকি জননীতি নির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই গবেষণা উন্নয়নের মূল ভিত্তি। গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান যখন শিল্প, কৃষি কিংবা সেবাখাতে প্রয়োগ হয়, তখনই তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপ নেয়।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলোর একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত এবং সরকারের মধ্যে কার্যকর সংযোগের অভাব। উন্নত দেশগুলোতে এই তিন পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতাকে Triple Helix Model বলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে, শিল্পখাত সেই জ্ঞানকে পণ্য ও প্রযুক্তিতে রূপ দেয়, আর সরকার নীতিগত সহায়তা ও অর্থায়নের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়। এই সমন্বয় যত শক্তিশালী, উদ্ভাবনের গতি তত দ্রুত হয়।
বাংলাদেশে এখনো অনেক গবেষণা গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। শিল্পে তার ব্যবহার, পেটেন্ট, প্রযুক্তি স্থানান্তর কিংবা বাণিজ্যিক প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে কম। ফলে গবেষণার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মূল্য পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে তৈরি ধারণা যদি উদ্যোক্তার হাতে পৌঁছায়, তাহলে সেখান থেকে নতুন শিল্প, নতুন কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কৃষি খাত বাংলাদেশের একটি সফল উদাহরণ। উচ্চফলনশীল ধান, লবণাক্ততা ও খরাসহিষ্ণু ফসল, মাছ ও প্রাণিসম্পদে নতুন প্রযুক্তি—এসবই দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল। স্বাধীনতার পর খাদ্যঘাটতির দেশ থেকে আজ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার যে অবস্থানে বাংলাদেশ পৌঁছেছে, তার পেছনে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। এটি প্রমাণ করে, গবেষণায় বিনিয়োগ ব্যয় নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লাভের ভিত্তি।
ওষুধ শিল্পও একই শিক্ষা দেয়। বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলো আজ বিশ্বের বহু দেশে রপ্তানি করছে। কিন্তু ভবিষ্যতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে নতুন ওষুধ, বায়োটেকনোলজি এবং চিকিৎসা প্রযুক্তিতে আরও বেশি গবেষণা অপরিহার্য। একইভাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কেবল আউটসোর্সিংয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং চিপ ডিজাইনের মতো উচ্চমূল্য সংযোজনকারী খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। আর এর ভিত্তি হবে গবেষণা।
গবেষণার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার সম্পর্কও গভীর। মহাকাশ প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা কিংবা জনস্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রেই নিজস্ব গবেষণা সক্ষমতা একটি দেশের কৌশলগত শক্তি বাড়ায়। সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বকে শিখিয়েছে, যে দেশ গবেষণায় এগিয়ে, সংকট মোকাবিলায় তার সক্ষমতাও বেশি। ভ্যাকসিন, রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি কিংবা তথ্য বিশ্লেষণে গবেষণার গুরুত্ব তখন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে শুধু অর্থ বরাদ্দ বাড়ালেই গবেষণার গুণগত মান বাড়বে না। প্রয়োজন গবেষণাবান্ধব পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে হবে, গবেষণা অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে হবে এবং তরুণ গবেষকদের জন্য আকর্ষণীয় ফেলোশিপ ও ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণার ফলাফল যেন নীতিনির্ধারণে ব্যবহার হয়, সেই সংস্কৃতিও গড়ে তুলতে হবে।
বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ছাড়া গবেষণায় বড় অগ্রগতি সম্ভব নয়। উন্নত দেশগুলোর গবেষণা ব্যয়ের বড় অংশই আসে শিল্পখাত থেকে। বাংলাদেশেও কর-প্রণোদনা, উদ্ভাবনী তহবিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প যৌথ গবেষণা কর্মসূচির মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো যেতে পারে। স্টার্টআপ, প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য গবেষণার ফল সহজলভ্য করতে পারলে একটি শক্তিশালী উদ্ভাবন-অর্থনীতি গড়ে উঠবে।
গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তোলার কাজ শুরু করতে হবে আরও আগে, স্কুল থেকেই। প্রশ্ন করতে শেখা, যুক্তি দিয়ে ভাবা, সমস্যা বিশ্লেষণ করা এবং নতুন সমাধান খোঁজার অভ্যাসই ভবিষ্যতের গবেষক তৈরি করে। মুখস্থনির্ভর শিক্ষা কখনোই জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির ভিত্তি হতে পারে না। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারও গবেষণানির্ভর রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য অংশ।
বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে শুধু শ্রমনির্ভর প্রবৃদ্ধি দিয়ে উন্নত রাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জন কঠিন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রতিযোগিতা হবে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানের। যে দেশ নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করবে, সেই দেশই ভবিষ্যতের বাজার, প্রযুক্তি এবং অর্থনীতির নেতৃত্ব দেবে। অন্যরা কেবল সেই প্রযুক্তির ভোক্তা হয়ে থাকবে।
উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার স্বপ্ন কেবল উঁচু সেতু, প্রশস্ত মহাসড়ক কিংবা আধুনিক ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি সত্যিকারের উন্নত রাষ্ট্রের পরিচয় পাওয়া যায় তার গবেষণাগারে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানে এবং নতুন ধারণাকে মূল্য দেওয়ার সংস্কৃতিতে। কারণ অবকাঠামো একটি দেশের বাহ্যিক শক্তি নির্মাণ করে, আর গবেষণা নির্মাণ করে তার বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি।
বাংলাদেশ যদি ২০৪১ সালের উন্নত রাষ্ট্রের লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে চায়, তাহলে গবেষণাকে আর শিক্ষা খাতের একটি উপধারা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটিকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে। কারণ গবেষণায় যে অর্থ ব্যয় হয়, তা আসলে ভবিষ্যতের সমৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং প্রজন্মের সম্ভাবনায় বিনিয়োগ। যে রাষ্ট্র গবেষণায় বিনিয়োগ করে, সে রাষ্ট্র ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে; আর যে রাষ্ট্র গবেষণাকে অবহেলা করে, সে ভবিষ্যৎ আমদানি করতে বাধ্য হয়। উন্নত রাষ্ট্রের পথে এই মৌলিক সত্যটি যত দ্রুত আমরা উপলব্ধি করব, তত দ্রুত আমাদের অগ্রযাত্রা অর্থবহ ও টেকসই হবে।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com
এইচআর/জেআইএম