প্রবাস

কুয়েতে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন

কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হয়েছে। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেনের সভাপতিত্বে প্রবাসী বাংলাদেশি, দেশটিতে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

Advertisement

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান দূতাবাসের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিবুল করিম চৌধুরী।

বাণী পাঠ শেষে জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ‘জুলাই শহীদ দিবস’-এর তাৎপর্য নিয়ে এক উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুয়েতে বসবাসরত বিভিন্ন পেশাজীবী ও প্রবাসী সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন ডিগ্রি বাড়ছে, বিবেক কমছে

আলোচনা সভা শেষে কুয়েতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

Advertisement

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল বীর শহীদকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। বিশেষ করে ১৬ জুলাই ২০২৪-এ রংপুরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে শাহাদাত বরণকারী শহীদ আবু সাঈদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘অন্যায্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবিচল সাহসের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদ এবং গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের আত্মত্যাগ পুরো জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। তাদের এই ত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।’

রাষ্ট্রদূত আরও যুক্ত করেন, এই মহান গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় জীবনে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমকে আরও সুদৃঢ় করার প্রেরণা জোগায়। শহীদদের রক্তের ঋণ কেবল স্মরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব যেখানে প্রতিটি নাগরিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ ভোগ করবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও গর্বিত প্রতিনিধি হিসেবে আখ্যায়িত করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ঐক্য, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় আরও কার্যকর অবদান রাখার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, আহতদের সুস্থতা এবং দেশের সার্বিক সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

এমআরএম