একসময় মধ্যবিত্তকে বলা হতো একটি দেশের সবচেয়ে স্থিতিশীল সামাজিক শ্রেণি। এই শ্রেণিই শিক্ষা, সংস্কৃতি, পেশাগত দক্ষতা, নাগরিক মূল্যবোধ এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতার প্রধান বাহক। রাষ্ট্রের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের চর্চা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি কিংবা মানবসম্পদ গঠনে মধ্যবিত্তের অবদান সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত যেন এক নীরব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের আয় বেড়েছে, বেতনও আগের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু জীবন থেকে স্বস্তি যেন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। মাস শেষে হিসাব মেলে না, সঞ্চয় কমছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ফলে প্রশ্নটি আজ শুধু অর্থনীতির নয়; এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে।
Advertisement
বাংলাদেশ গত দেড় দশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ তৈরি করেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে, অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও ডিজিটাল সেবায় বিস্তৃতি ঘটেছে। দারিদ্র্যের হারও দীর্ঘমেয়াদে কমেছে। কিন্তু সামষ্টিক অর্থনীতির এই ইতিবাচক চিত্রের আড়ালে একটি বাস্তবতা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে—প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তার সঙ্গে আয়ের বৃদ্ধি তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না।
অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো প্রকৃত আয় (Real Income)। কেবল বেতন বা আয় বাড়লেই মানুষের জীবনমান উন্নত হয় না; বরং সেই আয় দিয়ে কতটুকু পণ্য ও সেবা কেনা যায়, সেটিই প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার সূচক। যদি একজন চাকরিজীবীর বেতন ১০ শতাংশ বাড়ে, কিন্তু একই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে তাঁর প্রকৃত আয় কমে যায়। অর্থাৎ কাগজে-কলমে আয় বাড়লেও বাস্তবে জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতির ধারাবাহিক চাপ মধ্যবিত্তের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব, পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য সমন্বয়, বাসাভাড়া এবং চিকিৎসা ব্যয়—সব মিলিয়ে একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। যে পরিবার কয়েক বছর আগে নির্দিষ্ট আয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারত, আজ একই আয় দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতেই হিমশিম খাচ্ছে।
Advertisement
মধ্যবিত্তের স্বস্তি ফিরিয়ে আনা তাই কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য অনুকম্পা নয়; এটি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, সামাজিক ভারসাম্য এবং টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত। যে রাষ্ট্র তার মধ্যবিত্তকে নিরাপত্তা, আস্থা এবং ভবিষ্যতের আশা দিতে পারে, সেই রাষ্ট্রই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়।
সবচেয়ে বড় চাপটি এসেছে খাদ্য ব্যয়ে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ কিংবা শাকসবজি—প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। খাদ্য অর্থনীতির একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো, নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ তাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্যেই ব্যয় করে। ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি তাদের জীবনমানকে সরাসরি আঘাত করে। অনেক পরিবার এখন পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা খাদ্যের দিকে ঝুঁকছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ।
আবাসন ব্যয় মধ্যবিত্তের আরেকটি বড় দুশ্চিন্তা। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে বাসাভাড়া বহু পরিবারের মাসিক আয়ের এক-তৃতীয়াংশ থেকে প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত গ্রাস করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেট এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়। ফলে মাসের শুরুতেই আয়ের একটি বড় অংশ ব্যয়ের খাতায় চলে যায়। নিজের একটি ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্নও ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। জমির উচ্চমূল্য, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং আবাসন ঋণের সীমাবদ্ধতা মধ্যবিত্তের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
শিক্ষা ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানের মানসম্মত শিক্ষার জন্য বেসরকারি স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকছেন। এর বাইরে রয়েছে কোচিং, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, বইপত্র, পরিবহন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের অতিরিক্ত ব্যয়। সন্তানকে ভালো শিক্ষা দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা মধ্যবিত্ত পরিবারের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ; কিন্তু সেই বিনিয়োগের ভার বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবার সঞ্চয়ের সুযোগ হারাচ্ছে।
Advertisement
স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ এখনো মানুষকে নিজস্ব অর্থ থেকেই বহন করতে হয়। একটি সাধারণ অসুস্থতাও অনেক সময় একটি পরিবারের মাসিক বাজেটকে ওলটপালট করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদি রোগ, অস্ত্রোপচার বা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বহু পরিবার ধার, ঋণ কিংবা সঞ্চয় ভেঙে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে বাধ্য হয়। স্বাস্থ্যবিমার সীমিত বিস্তার এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
মধ্যবিত্তের আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হলো সঞ্চয়। কিন্তু যখন আয়ের অধিকাংশই দৈনন্দিন ব্যয়ে শেষ হয়ে যায়, তখন ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অবসরজীবন, সন্তানের উচ্চশিক্ষা কিংবা আকস্মিক বিপদের জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চয় গড়ে তুলতে না পারা মধ্যবিত্তকে ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অনিশ্চয়তা কেবল অর্থনৈতিক নয়; এটি মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং সামাজিক অস্থিরতারও কারণ হয়ে উঠছে।
মধ্যবিত্তের আরেকটি বড় পরিবর্তন ঘটেছে তাদের জীবনযাত্রার ধরনে। আগে ঋণ নেওয়া ছিল ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত; এখন তা অনেক পরিবারের মাসিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠেছে। বাড়ি ভাড়া, সন্তানের টিউশন ফি, চিকিৎসা, এমনকি দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতেও অনেকে ক্রেডিট কার্ড, ব্যক্তিগত ঋণ কিংবা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার নেওয়ার ওপর নির্ভর করছেন। ঋণ নিজে কোনো সমস্যা নয়, যদি তা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ভোগ ব্যয় মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লে সেটি অর্থনৈতিক দুর্বলতার লক্ষণ।
এই বাস্তবতার আরেকটি অদৃশ্য দিক হলো মানসিক স্বাস্থ্য। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষকে শুধু আর্থিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাস শেষে খরচের হিসাব না মেলা, সন্তানের শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগ, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ব্যয়, ভবিষ্যতের সঞ্চয় নিয়ে দুশ্চিন্তা—এসব চাপ দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগ, অনিদ্রা, বিষণ্নতা এবং পারিবারিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলেছে, আর্থিক নিরাপত্তা মানুষের মানসিক সুস্থতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ফলে মধ্যবিত্তের সংকট কেবল অর্থনীতির ভাষায় ব্যাখ্যা করলে এর পুরো চিত্র ধরা পড়ে না।
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা যায়, যে দেশগুলোর মধ্যবিত্ত শ্রেণি শক্তিশালী, সেসব দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। কারণ এই শ্রেণিই সবচেয়ে বেশি ভোগ করে, বিনিয়োগ করে, কর দেয় এবং নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিপরীতে মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে বাজারে চাহিদা হ্রাস পায়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা চাপে পড়ে এবং অর্থনীতির গতিশীলতা কমে যায়। অর্থাৎ মধ্যবিত্তের সংকট শেষ পর্যন্ত জাতীয় অর্থনীতিরও সংকটে রূপ নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শেখারও সুযোগ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া দ্রুত শিল্পায়নের পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জন্য আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা জোরদার করেছে। সিঙ্গাপুর দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচি, বাধ্যতামূলক সঞ্চয় এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। ইউরোপের অনেক দেশে মানসম্মত সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার কারণে মধ্যবিত্তকে ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয় না। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা অবশ্য ভিন্ন, কিন্তু নীতিগত শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ যথেষ্ট রয়েছে।
বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু বেতন বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে জরুরি হলো মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় পর্যায়ে রাখা। মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকলে বেতন বৃদ্ধি তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। এজন্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা, বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর নজরদারি এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আবাসন খাতেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। মধ্যবিত্তের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প, সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ তাদের অর্থনৈতিক চাপ অনেকটাই কমাতে পারে। একইভাবে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে যাতায়াত ব্যয় কমবে এবং জীবনমানও উন্নত হবে।
স্বাস্থ্যবিমার বিস্তার এখন সময়ের দাবি। একটি বড় অসুস্থতা যেন কোনো পরিবারকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে না ঠেলে দেয়, সে জন্য ধাপে ধাপে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নত হলে মধ্যবিত্তের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হবে না। একই সঙ্গে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে পরিবারের আয় বৃদ্ধির বাস্তব ভিত্তিও তৈরি হবে।
করনীতিতেও ভারসাম্য প্রয়োজন। প্রত্যক্ষ করের পরিধি বাড়িয়ে এবং কর প্রশাসনকে আরও কার্যকর করে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মধ্যবিত্তের ওপর তুলনামূলক চাপ কমে এবং উচ্চ আয়ের মানুষ ও সম্পদশালী শ্রেণি ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির একটি অংশও শহুরে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যবিত্ত পরিবারের দিকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা যেতে পারে।
মধ্যবিত্তকে নিয়ে আলোচনা অনেক সময় আবেগনির্ভর হয়ে পড়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি দেশের মধ্যবিত্ত দুর্বল হলে সেই দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ এই শ্রেণিই কর দেয়, সঞ্চয় করে, বিনিয়োগ করে, উদ্যোক্তা তৈরি করে, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া মানে বাজারের প্রাণশক্তি কমে যাওয়া; তাদের অনিশ্চয়তা বাড়া মানে ভবিষ্যৎ নিয়ে রাষ্ট্রেরও অনিশ্চয়তা বাড়া।
বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। আগামী দিনের লক্ষ্য উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং উন্নত অর্থনীতির কাতারে পৌঁছানো। সেই যাত্রায় কেবল জিডিপির প্রবৃদ্ধি নয়, মানুষের জীবনমানই হবে সবচেয়ে বড় সূচক। যদি এমন হয় যে আয় বাড়ছে, কিন্তু স্বস্তি বাড়ছে না; বেতন বাড়ছে, কিন্তু সঞ্চয় কমছে; উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু নিরাপত্তাবোধ হারিয়ে যাচ্ছে—তাহলে সেই উন্নয়নের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
মধ্যবিত্তের স্বস্তি ফিরিয়ে আনা তাই কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য অনুকম্পা নয়; এটি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, সামাজিক ভারসাম্য এবং টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত। যে রাষ্ট্র তার মধ্যবিত্তকে নিরাপত্তা, আস্থা এবং ভবিষ্যতের আশা দিতে পারে, সেই রাষ্ট্রই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।drharun.press@gmail.com
এইচআর/এএসএম