দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতন প্রবণতা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবস দরপতন হওয়ার পর চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববারও (২৬ জুলাই) শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে।
Advertisement
প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকলো শেয়ারবাজার।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশি প্রতিষ্ঠান। এতে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। মাঝে আর এক দফা সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে লেনদেনের শেষদিকে শেয়ারবাজারে রীতিমতো ঢালাও দরপতন হয়। এতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় নাম লেখানোর পাশাপাশি মূল্য সূচকের পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
আরও পড়ুন টানা ৪ কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থেকে শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতনদিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪০টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ৩টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২৭টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
Advertisement
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২৭টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৯টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৪টির এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৯টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আরও পড়ুন শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন, কমেছে লেনদেনমূল্য সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৫৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
Advertisement
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সামিট এলায়েন্স পোর্টের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এমএল ডাইংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৪৯ লাখ টাকার। ১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইটি কনসালটেন্টস।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ড্রাগন সোয়েটার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, লাভেলো আইসক্রিম, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, মালেক স্পিনিং এবং টেকনো ড্রাগস।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৪১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ ২১৯ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৪টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২০ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
এমএএস/এমএমকে