কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, বদিউর রহমান বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই একরামকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছিল। একরাম ছিলেন বদির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাকে হত্যার পর তার সম্পত্তিও বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়। এই ঘটনার নেপথ্য নায়ক ছিলেন বদি।
Advertisement
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে একরাম হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে এবং ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, যারা কারাগারে আছেন, তাদের শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আর যারা পলাতক, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আগামী ২৫ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
Advertisement
শেখ হাসিনা ছাড়া যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে তারা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক সংসদ সদস্য বদিউর রহমান বদি, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান তুষার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম মিনু, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন (রাজন), স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস মাহমুদ (রাজু) এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান (সৈকত)।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে বদিউর রহমান বদি, আনোয়ার লতিফ খান তুষার এবং মাহবুব আলম মিনু বর্তমানে অন্য মামলায় কারাগারে রয়েছেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল কারাগারে থাকা এই তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাব ও এর সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই বিবৃতিতেও একরামুল হক হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদও ছিলেন।
এফএইচ/কেএইচকে
Advertisement