আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই কর্মকর্তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাজিল সরকার। আগামী সপ্তাহে ব্রাজিলে সফরের জন্য তারা আবেদন করেছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
Advertisement
গত শনিবার (২৫ জুলাই) ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এ বিষয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল সরকার মনে করছে, ওই দুই মাকিন কর্মকর্তা আগামী অক্টোবরে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ও বিতর্ক সৃষ্টি করতে যাচ্ছিলেন।
আরও পড়ুন ব্রাজিলের জনপ্রিয় যে জিনিসে ক্ষুব্ধ ট্রাম্পদেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইলি এম বার্নস ও উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল স্যামসন গত ২০ জুলাই ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। গত ২৪ জুলাই তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে কেন তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে কোনো কারণ জানানো হয়নি।
এবারের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বলসোনারো পরিবারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
Advertisement
গত মে মাসের শেষদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার ভাই এদুয়ার্দো ওয়াশিংটনে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর কিছুদিন পরই ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের দুটি বড় মাদক পাচারকারী সংগঠন—ফার্স্ট কমান্ড ক্যাপিটাল ও রেড কমান্ডকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা।
আরও পড়ুন ব্রাজিলের পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্রএছাড়া গত শুক্রবার থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ব্রাজিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এমন কিছু নীতি অনুসরণ করছে যা বিদেশি ব্যবসা ও প্রতিযোগিতার জন্য ন্যায্য নয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র আরও দাবি করেছে, দেশটি জোর করে বা বাধ্যতামূলকভাবে শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর মতো শ্রম-অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তবে, লুলা প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপ আসন্ন নির্বাচনে সিনেটর বলসোনারোর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা মাত্র।
আরও পড়ুন দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন / ব্রাজিলের ওপর ৫০% শুল্ক বসিয়েও কেন সুবিধা করতে পারছেন না ট্রাম্প?মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বার্নস ও স্যামসনের ২৭ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত ব্রাসিলিয়া সফরের পরিকল্পনা ছিল। ব্রাজিলে সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেশটির নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বৈঠক করার উদ্দেশ্যে তারা সফর করতে চেয়েছিলেন।
Advertisement
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এটি একটি নিয়মিত কূটনৈতিক সফর ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কখনোই কোনো গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচন দুর্বল করার পরিকল্পনা ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রমাণ ছাড়াই দেশটির ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। বর্তমানে অভ্যুত্থানচেষ্টার দায়ে তিনি নিজ বাড়িতে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, গত ২৫ বছর ধরে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে জালিয়াতির সুযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি তার ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোও এসব দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন। তবে শনিবার সাও পাওলোতে লিবারেল পার্টি বলসোনারোকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। সে সময় তিনি এসব বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি।
সূত্র: এপি, ইউএনবিকেএএ/