হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবাপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা দূর করা সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
Advertisement
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পালিত হতে যাওয়া বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৭ জুলাই) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ কর্মসূচি ও অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পালিত হবে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’। প্রতিপাদ্যে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক ভয় ও প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে প্রতিরোধ এবং পরীক্ষা ও চিকিৎসাকে সবার জন্য সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন। অথচ সময়মতো টিকাদান, পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবাপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা দূর করা সময়ের দাবি।
Advertisement
তারেক রহমান জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে দেশে উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন কমে। একই সঙ্গে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বাণীতে তিনি আরও বলেন, রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ধারাবাহিক চিকিৎসা এবং সরকারি সহায়তা প্রদান আরও সহজ ও কার্যকর হবে। হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ ব্যবস্থাও এতে আরও শক্তিশালী হবে।
আরও পড়ুন বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস / হেপাটাইটিস প্রতিরোধে পারিবারিক উদ্যোগের সময় এখনইপ্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য একটি আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ (প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম) নীতিতে জনস্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট, লিভার চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
Advertisement
তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ আরও সফল হবে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও হেপাটাইটিসমুক্ত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এমইউ/একিউএফ