দেশের বাজারে থাকা টুথপেস্টের বড় একটি অংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার দাবি সামনে আসার একদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
Advertisement
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় মান অনুসারে টুথপেস্টের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা আইনসম্মত কি না, সে প্রশ্নে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৭৬ শতাংশ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি রিটে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, শিল্প সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মোট আটজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
Advertisement
আবেদনে জাতীয় মানদণ্ড অনুযায়ী টুথপেস্টের মান নিশ্চিত করতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশু থেকে বয়স্ক, প্রায় সব বয়সী মানুষের প্রতিদিনের ব্যবহৃত টুথপেস্ট নিয়ে উদ্বেগের কারণ তৈরি হয়েছে। দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টের প্রায় চারটির মধ্যে তিনটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নয়, শিশুদের জন্য বাজারজাত টুথপেস্টেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডিও) এক বছরব্যাপী গবেষণায় বাজারে থাকা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে।
গবেষণায় দেখা যায়, ২৬টি নমুনা, অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।
Advertisement
গতকাল রোববার ঢাকার লালমাটিয়ায় এসডিওর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি আগেই প্রমাণিত হয়েছে।
বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
রিটকারী আইনজীবী জানান, হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
এফএইচ/এমকেআর